log1

NOTICE

স্মারক নং: ২৫৬০ বুদ্ধাব্দ/ইস্যু তাং ০১/১০/২০১৬ইং/সা.প্র.বি/সংখ্যা-০৪

  জনস্বার্থে সতর্কতামূলক নোটিশ

         রাজবন বিহার- বাংলাদেশেooooর অন্যতম বৌদ্ধধর্মীয় বিহার বা প্রতিষ্ঠান, যার পরিচিতি ও সুনাম কেবল বাংলাদেশ নয়; দেশের গণ্ডি পেরিয়ে পৃথিবীর নানা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশে-বিদেশে এ প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শাখা  মৌলিক বৌদ্ধধর্ম প্রচার ও প্রসারে নিবেদিত রয়েছে। তারই আলোকে রাজবন বিহারে বছরের নানা সময়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নানা বয়সের, নানা ধর্মের মানুষের সমাগম ঘটে থাকে।

        রাজবন বিহার ও তৎ শাখা বনবিহারগুলো প্রতিষ্ঠার মূলে যিনি অর্থাৎ বনবিহারসমূহের প্রাণপুরুষ, প্রবাদপ্রতীম সংঘব্যক্তিত্ব অর্হৎ পরমপূজ্য শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থবির, যিনি ‘বনভন্তে’ নামেই সমধিক পরিচিত। তিনি একাধারে ২১ বছর একাকী অরণ্য-জীবন কাটিয়ে লোকালয়ে আসেন, এ দেশের বৌদ্ধ সমাজকে বুদ্ধসমকালীন মৌলিক বৌদ্ধধর্মের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। তাই তাঁর সুনাম দেশে যেমন অপ্রতিরোধ্য, তেমনি দেশের বাইরেও তিনি শ্রদ্ধার পাত্র হয়ে রয়েছেন। সেজন্য জীবদ্দশাকালীন বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দসহ দেশের নানা স্তরের মানুষ তাঁর আশীর্বাদ নিতে আসতো, তেমনি এখনো তাঁর পরিনির্বাণোত্তর দেহধাতুকে দেখতে মানুষের ঢল নামে।
কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, বনভন্তে এবং তাঁর শিষ্যসংঘের অত্যাধিক সুনাম ও জনপ্রিয়তায় একশ্রেণীর মানুষ হিংসায়-জ¦লনে আত্মপীড়ন বোধ করে। তাই তারা বনভন্তে এবং তাঁর শিষ্যসংঘ, রাজবন বিহার ও অন্যান্য শাখা বনবিহারগুলোর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে নানা মিথ্যা, কুরুচিপূর্ণ, অশালীন তথ্য ও ছবি নানাভাবে প্রচার করে। বিশেষ করে বর্তমানে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক গণমাধ্যমে তারা এ ধরণের বানোয়াট, ভুল তথ্য প্রচারে আগ্রাসী ভূমিকা পালন করছে। এরই ফলশ্রুতিতে তারা ফেসবুকে বনভন্তে, বনভন্তের শিষ্যসংঘ, রাজবন বিহার ও অন্যান্য শাখা বনবিহারের নামে বেনামে পেইজ ও গ্রুপ খুলে দিয়ে এ অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে।
বনভন্তের শিষ্যসংঘ মনে করে, এটা ব্যক্তিগত ভাবমূর্তিসহ ধর্মের উপর আঘাত করা, মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারক উস্কানীমূলক তথ্য প্রচার করা, সর্বোপরি কারো নির্দোষ স্বাধীন কর্মকা-ের উপর সরাসরি বাধা প্রদান বা হস্তক্ষেপ করা। তাই তাদের উদ্দেশে বনভন্তের শিষ্যসংঘ আনুষ্ঠানিকভাবে এই মর্মে সতর্কতামূলক “নোটিশ” প্রদান করছে যে, যদি অনতিবিলম্বে সেসব পেইজ ও গ্রুপগুলো বন্ধ না করা হয়, তাহলে আমরা প্রতিকার হিসেবে যথাযথ আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য ও প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় যা বলা হয়েছে তা সকলের জ্ঞাতার্থে উপস্থাপন করা হলো:
“৫৭/১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইট বা অন্য কোন ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসত্য হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণœ হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহলে তার এই কার্য হবে একটি অপরাধ। আর এই অপরাধের সাজা সংশোধনীর মাধ্যমে নি¤েœ ৭ বৎসর থেকে সর্বোচ্চ ১৪ বৎসর পর্যন্ত করা হয়েছে। সাথে অর্থদণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।”

         তাই সকলের প্রতি, বিশেষ করে যারা এসব ভূয়া পেইজ বা গ্রুপ খুলেছেন তাদেরকে এসব অহিতকর, অকল্যাণমূলক, বিভ্রান্তিমূলক এবং দ্বন্ধ-সংঘাত সৃষ্টিকারক কাজ হতে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ করা গেল।

সকলের মনে শুভ বুদ্ধি, শুভ চিন্তার উদয় হোক।
“ভবতু সব্ব মঙ্গলং”

কর্তৃপক্ষ
বনভন্তের শিষ্যসংঘ বাংলাদেশ

Print Friendly, PDF & Email