log1

বৌদ্ধ সম্প্রদায়, বনভন্তে এবং একটি প্রতিষ্ঠান

Fajlul

লেখক: বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, রেডিও সংবাদপাঠক ও উপস্থাপক, কলামলেখক এবং সাহিত্যিক।

সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি এবং

প্রতিষ্ঠাতা আহ্বায়ক, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক অধিকার বাস্তবায়ন পরিষদ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর, বাংলাদেশ।

ফোন: ০১৮২৪৫১৬০৮৮

ই-মেইল: snue90@yahoo.com, fsaikat26@gmail.com

 

 

 

বৌদ্ধ সমপ্রদায়, বনভন্তে এবং একটি প্রতিষ্ঠান

 ড. ফজলুল হক সৈকত

বাংলা সাহিত্যের অগ্রগণ্য দার্শনিক-প্রাবন্ধিক এবং চলিত ভাষারীতির প্রধানতম প্রবর্তক “সবুজপত্র” (প্রথম প্রকাশ: ১৯১৪) পত্রিকার সম্পাদক প্রমথ চৌধুরী (১৮৬৮-১৯৪৬) রচিত “সাহিত্যে খেলা” নামক একটি প্রবন্ধের প্রথমাংশের খানিকটা উদ্ধৃত করে বর্তমান আলোচনাটি আরম্ভ করার ইচ্ছাটা কিছুতেই সংবরণ করতে পারছি না। প্রমথ চৌধুরী লিখেছেন: “যখন এ জগতে দশটা দিক আছে তখন সেই সব দিকেই গতায়াত করবার প্রবৃত্তিটি মানুষের পক্ষে স্বাভাবিক| মন উঁচুতেও উঠতে চায়, নীচুতেও নামতে চায়। বরং সত্য কথা বলতে গেলে সাধারণ লোকের মন স্বভাবতই যেখানে আছে তারই চারপাশে ঘুরে বেড়াতে চায়, উড়তেও চায় না, ডুবতেও চায় না। কিন্তু সাধারণ লোকে সাধারণ লোককে কি ধর্ম, কি নীতি, কি কাব্য, সকল রাজ্যেই অহরহ ডানায় ভর দিয়ে থাকতেই পরামর্শ দেয়। একটু উঁচুতে না চড়লে আমরা দর্শক এবং শ্রোতৃমণ্ডলীর নয়ন মন আকর্ষণ করতে পারিনে। বেদীতে না বসলে আমাদের উপদেশ কেউ মানে না,”। আজ কথাগুলো বিশেষভাবে মনে পড়ছে রাঙামাটির রাজবন বৌদ্ধবিহার এবং ধর্মগুরু-অভিভাবক ও দার্শনিক বনভন্তে সম্বন্ধে লিখতে বসে। উপদেশ এবং ভাষণ যে মানুষ শোনে এবং চিন্তাপ্রচারক ও ধর্ম-দার্শনিক শ্রদ্ধেয় সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তের (জন্ম: ০৮ জানুয়ারি ১৯২০ খ্রিস্টাব্দ) বাণী শুনবার জন্য যে হাজার হাজার মানুষ একটি বিশেষ দিনে রাঙামাটির রাজবাড়ির কোল ঘেঁষা বিহারের স্থির চত্তরে সমবেত হয়, তা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না।

বনভন্তের কথা শুনবার জন্য, তাঁকে একনজর দেখবার জন্য, তাঁর অনুসরণীয় পধ ধরে জীবনের বাকি সময়টা পার করবার প্রত্যয় ধারণের জন্য পার্বত্য তিনজেলাসহ সারাদেশের (বহির্দেশেরও বটে) অগণন মানুষের উপচে পড়া ভিড় মনে করিয়ে দেয় যে, ধর্মের পথ থেকে লোকেরা সত্যি সত্যি বিচ্যুত হয়নি। হয়তো সামাজিক, পারিবারিক এবং নানান কারণে মাঝে মধ্যে বিভিন্ন দিকে ও প্রবৃত্তিতে মানুষ আটকে পড়ে ঠিকই, কিন্তু ভেতরে ভেতরে ধর্মের বাণী অনুসরণের একটা আকুলতা তারা বহন করে চলেছে। ২০১১ সালের ৮ জানুয়ারি বনভন্তের ৯১তম জন্মদিনে আমি সপরিবারে গিয়েছিলাম রাঙামাটির রাজবন বিহারে বনভন্তের ধর্মচিন্তা-আয়োজন আর তার রীতি চর্চার কার্যাবলি দেখবার জন্য; (অবশ্য বার্তমানকালে, বনভন্তের মতো ধর্মপ্রচারকের প্রাসঙ্গিকতা অনুধাবন করার বিষয়টিও মনের ভেতরে লুকিয়ে ছিল)। দার্শনিক বনভন্তের ভক্ত এবং পরম পুজনীয় বনভান্তের ধর্মদেশনা গ্রন্থের সংকলক, আমার ছাত্র, জনি ভট্টাচার্য ও তার পরিবারের সদস্যদের আতিথেয়তা ছিল আমাদের সেদিনের m¤^j| আশ্রমের নিকটেই জনিদের বাড়ি; কাজেই বনভন্তের জন্মতিথি উপভোগ করাটা আমাদের জন্য সহজ হয়ে গিয়েছিল। আশ্রমের পরিসর, পরিবেশ ও পরিবেশনায় যার পর নাই মুগ্ধ হয়েছি। হাজার হাজার লোক (সবাই যে আবার বৌদ্ধ ধর্মালম্বী এমন নয়) আগের সারারাত এবং ওইদিন ভোর বেলা থেকে জড়ো হয়েছে আশ্রমে। কী অপরূপ মিলনমেলা! নারী-পুরুষ, শিশু-বৃদ্ধ- সকলে হাত ধরে, মৃদু পায়ে যেন আনন্দময় পরিবেশ নির্মাণ করে চলেছে তারা। এখানকার সাধনার পরিসর ও পরিবেশ এবং প্রকাশনা ব্যবস্থা ও ব্যবস্থাপনা সত্যিই অবাক করার মতো। আশ্রমের অধিবাসীদের পারস্পরিক সম্পর্ক, শৃঙ্খলা, শ্রদ্ধা, দাপ্তরিক পদ-পদবী ও রীতিনীত, ধর্মীয় আচরণ- সবকিছু মিলে এককথায় মুগ্ধ হবার মতো জায়গা এবং ঘটনার সমাবেশ এই বনভন্তের আশ্রম। কী সুন্দর মিলনের আহ্বান! কী দারুণ সহযোগ।

আয়োজনের ভাবগত ব্যাপকতা, ব্যবস্থাপনার পারিপাট্য দেখে আমার মনে হয়েছে সরকারি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা এবং সম্পৃক্ততা লাভ করলে এই চত্বরটি হয়ে উঠতে পারে একটি অনন্য ও অনুকরণীয় জ্ঞানভুবন। বনভন্তের এই আশ্রমে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় এবং বিনিয়োগে প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন ধর্মীয় গ্রন্থ ও স্মরণিকা। কিছু দুষপ্রাপ্য গ্রন্থ অনুবাদের মাধ্যমে পালি ভাষা থেকে বাংলায় রূপান্তরেরও কাজ চলছে। আশ্রম ক্যাম্পাসে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে নিজস্ব ও স্বয়ংসম্পূর্ণ ছাপাখানা। আমার মনে হয় এই আয়োজনকে ঘিরে বৌদ্ধধর্মের পাঠ, চর্চা ও গবেষণার জন্য নির্মিত হতে পারে একটি বিদ্যাপীঠ; প্রতিষ্ঠিত হতে পারে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট। পার্বত্য অঞ্চলের সুনিবিড় পর্যটন পাটাতনে এই ধর্মজ্ঞানচর্চাকেন্দ্রটি বাংলাদেশসহ সারাপৃথিবীর জ্ঞানক্ষেত্রে যোগ করতে পারে নতুন ব্যঞ্জনা। আর এখান থেকে দুনিয়ার সব প্রকৃতিপ্রেমী, সৌন্দর্যঘনিষ্ট ও জ্ঞানসাধকরা খুঁজে পাবে ভিন্নতর প্রণোদনা। ভ্রমণে দেখার আনন্দের সাথে খুব সহজেই যুক্ত হবে জানার নতুন ভুবন। সাংস্কৃতিক ভাববিনিময়ের সাথে মিলবে ধর্মচিন্তা, সামপ্রদায়িক সমপ্রীতি ও সৌহার্দ্যবোধের অপার সুযোগ ও সাধনার আলোকময় পধের সন্ধান।

অনেকেরই জানা আছে যে, বর্ষাযাপন, পূর্ণিমা যাপন, কঠিন চীবরদান- প্রভৃতি ধর্মীয় অনুষ্ঠানাদিতে বনভন্তের আশ্রম এই বনবিহার এক অবিকল্প ও অবশ্যস্মর্তব্য সাধনভুবন। ২৪ ঘন্টার মধ্যে কাপড় তৈরি করে চীবর সেলাইসহ দানোত্তম কঠিন চীবর দানের সকল কার্য সম্পাদনের রীতি থাকলেও বাংলাদেশে কেবল এই রাঙামাটির রাজবন বিহারেই ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী সময় ধরে কাজ সম্পন্ন করা হয়। (নানান সামাজিক ও আনুষঙ্গিক প্রতিকূলতায় অন্যত্র এই রীতি শিথিল হয়ে পড়েছে)। গৌতম বুদ্ধের মতে- “এ দান শ্রেষ্ঠ দান; এ দানের ফলে দাতা দেবলোকে দেবব্রক্ষ্মরূপে এবং মানবকুলে রাজচক্রবর্তীরূপে জন্মলাভ করে; দাতাকে নীচকুলে জন্ম নিয়ে দুঃখ-কষ্ট ভোগ করতে হয় না; এ দানের ফল অপরিমেয়।” আজকের বিশ্বের প্রতিকূল পরিবেশে বুদ্ধের এই বাণী তাঁর অনুসারীদেরকে আবার নতুন করে লৌকিকতাহীন অনাবিল সুখময় জীবনের কথা মনে করিয়ে দেয়। জগতের সকল প্রাণীর সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রার্থনার মধ্যে যে নিজেরও সুখময় জীবনের সন্ধান লুকিয়ে আছে সে কথা আজ আবার নতুন করে অনুধাবন করার সময় হয়েছে। জীবনের ও জগতের যাবতীয় ক্লেশ ও ক্লান্তিতে আচ্ছন্ন এবং চিন্তায় ও কর্মে শান্ত মানুষেরা এখানে আসে সামান্য সময়ের জন্য নিজেকে ধর্মীয় আবেশে জড়িয়ে শান্তির স্পর্শ পাবার তাগিদে। যেন বিহারের বাণী ও কর্মযজ্ঞ শ্রবণ আর অবলোকন ছাড়া কোথাও কোনো স্বস্তি নেই, সুখ নেই। মৃত্যুর নিশ্চিত খবর যাদের কাছে জানা, তারা একতিল সময়ও বোধকরি নষ্ট করতে রাজি নয়; তাইতো তাদের এই সমাগম। নিজেকে সামিল করে পরিবার-পরিজন এবং প্রতিবেশী ও আত্মীয়-স্বজনকেও এই মহামিলনের ডাকে সাড়া দিতে উদ্বুদ্ধ করেন অনেকে। সাথে করে নিয়ে আসেন তাদেরকে, যারা বুদ্ধের বাণী থেকে, ভনভন্তের জীবনাচারের রীতির পথ থেকে- ধর্মের শিক্ষা থেকে বহুদূরে অবস্থান করছে। সমাগত সকলের মনে ও প্রাণে কেবল শান্তির প্রত্যাশা আর আপাত প্রাপ্তির প্রশান্তি!

প্রকৃতিগতভাবে আমরা অতীত-আশ্রয়ী। ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারকে স্বীকার করে আমরা পারস্পরিক শ্রদ্ধা-ভালোবাসা-সমতা-ত্যাগ ও ধর্মীয় নীতিবোধ প্রতিষ্ঠার জন্য ব্যাকুল থাকি। আর বিশ্বাস, উদার মানসিকতা এবং স্বদেশপ্রীতি কখনও কখনও আমাদের জাতীয় উন্নয়ন-অগ্রগতির পাথেয় হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। কাল থেকে কালে এই সব ভাব ও গতি সমাজকে, মানুষকে সমৃদ্ধির পথে পা বাড়াতে সাহস যুগিয়েছে। সময়ের প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়েছে আন্তঃধর্ম সমপ্রীতির প্রসঙ্গ ও চিন্তা। আমার মনে হয়, ইন্টারফেইথ হারমনি বা আন্তঃধর্মীয় সমপ্রীতির স্থাপনের জন্য নিবিড় গবেষণা এবং যোগাযোগের মাধ্যম ও কেন্দ্রও হতে পারে রাঙ্গামাটির এই রাজবন বিহার। ইসলাম ধর্ম, সনাতন ধর্ম, খ্রিস্টান ধর্ম, বৌদ্ধধর্মসহ নানান ধর্মবিশ্বাসী মানুষের মিলনমেলা হতে পারে এই আশ্রম। পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য স্থানে বিভিন্ন ধর্মের প্রার্থনালয়ে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে অনুরূপ সমপ্রীতি কেন্দ্র। নিয়মিত আলোচনা সভা, সেমিনার, সামাজিক উন্নয়নমূলক পর্যালোচনা অনুষ্ঠান এবং কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে এই ধরনের আন্তঃধর্ম সমপ্রীতি কেন্দ্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনেও এই কেন্দ্রগুলো মডেল হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। আমার বিশ্বাস, আন্তঃধর্ম সমপ্রীতি কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে রাজনৈতিক-সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক উন্নয়নকেও ত্বরান্বিত করা সম্ভব।

সময়ের কাছে পরাজিত সৈনিক, বয়সের ভারে নত, প্রায় শতবর্ষী বনভন্তে এখনও তাঁর শিষ্যদের এবং হাজারো অনুসারীদের জন্য ধর্মদেশনা প্রদান করে চলেছেন নিরলসভাবে। যেন কোনো ব্যক্তি কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধান নন- তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান! বিনয়-আবেদন-চিন্তার প্রসার, উপাসনার প্রাসঙ্গিকতা ও পদ্ধতি, আত্মোপলব্ধিতে বলীয়ান হওয়ার কৌশল, ধর্মীয় উৎসব-অনুষ্ঠানাদিতে আত্মশাসন-আত্মনিয়ন্ত্রণ-আত্মসমর্পণ প্রভৃতি অতি প্রয়োজনীয় সামাজিক বিষয়ে তাঁর পরামর্শ এবং অনুসরণীয় পথ আজকের প্রজন্মের জন্য এক বিশেষ পাথেয়! পাপকর্ম ও অশুভকে বর্জন, সত্য-সুন্দরকে বরণ, প্রজ্ঞাসাধনা, সংযম প্রভৃতি ব্রত-অনুশীলন ও পালনের দিকে বনভন্তের যে নির্দেশনা, তা ধার্মিক মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভাবনার ব্যাপকতা ও তাৎপর্যের দিক থেকে বনভন্তের কার্যপরিধি অনায়াসে আমাদের চিন্তাজগতে এক অনন্য সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। যুক্তি ও জিজ্ঞাসার mgš^‡q তিনি মানুষকে ধর্মের পথে- সত্যের পথে ডাক দিয়ে যাচ্ছেন অনবরত। সময়ের সমগ্রতায় যেন এই মানুষটি অপার শান্তির নীড়রূপে দেখতে চান আমাদের এই প্রাণপ্রিয় পৃথিবীকে। কিন্তু কালের প্রতিকূলতাও তো বাস্তব- তাকে অবহেলা করা চলে না। বনভন্তে সে বিষয়েও সদা সতর্ক। তবে তিনি অনুভবের প্রখরতা দিয়ে সবকিছুকে জয় করতে চান; অন্যকেও সেই পরামর্শই দিয়ে চলেছেন। যেমন কবি-কথানির্মাতা জীবনানন্দ একবার ভেবেছিলেন-

“গাঢ় অন্ধকার থেকে আমরা এ-পৃথিবীর আজকের মুহূর্তে এসেছি।

বীজের ভেতর থেকে কী করে অরণ্য জন্ম নেয়,-

জলের কণার থেকে জেগে ওঠে নভোনীল মহান সাগর।…

আমরা জেনেছি সব,- অনুভব করেছি সকলই।”

আমরা জানি, মানুষের জীবনের সাজসজ্জায় ও সাধনায় থাকে পূর্ণতাকে অর্জন করবার এক অমোঘ মোহ; তাকে অতিক্রম করা সহজ নয়। এই পূর্ণতার সমগ্রতাকে ধরতে সহায়তা করে আত্মশুদ্ধির প্রবল তাড়না। আর এই সাধনার পথ ধরেই মানুষ হয়তো পৌঁছতে পারে ধর্মের আলোকিত ও প্রত্যাশিত জগতে। রাঙামাটির রাজবন বিহারের আশ্রম-সাধক বনভন্তের পথযাত্রাও বোধকরি ওই সমগ্রতার সুখকে স্পর্শ করবার বাসনা থেকে। সকল শূন্যতার পীঠে আলোর বাতি জ্বালিয়ে- মিথ্যা-সন্ত্রাস-চৌর্যবৃত্তি-প্রতারণা-বদঅভ্যাস-গল্পবাজি-নেশা-দুশ্চিন্তা আর মন ও শরীরের বিচিত্র অস্থিরতাকে জয় করে বনভন্তে এবং তাঁর অনুসারীরা একদিন (প্রতিদিন অর্থেও ধরে নেওয়া চলে) অনন্ত-অসীম সুখ ও সৌন্দর্যের বারান্দায় দাঁড়াবেন, স্পর্শ করবেন আকাঙ্ক্ষার স্বরূপকে- এই প্রত্যাশা।

Print Friendly, PDF & Email