log1

অতি কাছে থেকে দেখা আমার পরমপূজ্য বনভান্তে

অতি কাছে থেকে দেখা আমার পরমপূজ্য বনভান্তে

প্রীয়কুমার চাকমা

23

প্রশাসনিক কর্মকর্তা

খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি  

     ২১ আগষ্ট,২০১২খ্রিঃ /৬ ভাদ্র,১৪১৯ বঙ্গাব্দ,মঙ্গলবার সকালের নাস্তা ছেড়ে বাগানের কাজ দেখতে যাচ্ছিলাম। টানা কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে কাঁচা রাস্তায় মোটর সাইকেলে করে যাওয়া সম্ভব নয়,তাই পায়ে হেঁটে যেতে হচ্ছে । পেরাছড়া ধর্ম্মপুর আর্য বনবিহারের কোল ঘেঁষে প্রায় ৩ কিঃমিঃ উত্তর পূবের রাস্তার ধারে আমার একটি ছোট্ট ফলদ বাগান রচনার চেষ্টা করছি। বাগানের প্রতি রয়েছে আমার অন্য রকমের ঝোঁক তাই,সুযোগ পেলেই বিশেষ করে যখন সরকারী বা সাপ্তাহিক ছুটি থাকে সে দিনগুলোকে বেশ কাজে লাগাতে ইচ্ছে করে। বাগানে যাবার পথে সকাল ১১.৫৫ ঘটিকা আমার মুঠো ফোনে একটি কল আসলো , b¤^iwU আমার কাছে অপরিচিত লাগলো,হাঁটা পথে কলটি রিসিভ করবো কি না ভাবতে ভাবতে অ

নিচ্ছা সত্ত্বেও ধরলাম । এর আগেও পরিচিত অপরিচিত দু-একজনের কল পেয়েছি কিন্তু রিসিভ করিনি । কিন্তু কেন যেন এ অপরিচিত কলটি আমার ধরতে ইচ্ছে করলো এবং কলটি ধরতেই অপর প্রান্ত থেকে আমার পরম আরাধ্য শ্রদ্ধেয় ইন্দ্রগুপ্ত ভান্তে বললেন উপাসক  আমি ইন্দ্রগুপ্ত্ত ভিক্ষু বলছি। হঠাৎ করে মনটা ধুক্‌ করে উঠলো আর ভাবছি ,আহাঃ এখন যদি না ধরতাম তো বড়ো একটি অন্যায় কাজ করে ফেলতাম। ভান্তেকে বন্দনা জানিয়ে আর্শীবাদ প্রার্থনা করলাম এবং কুশলাদি নিলাম । ভান্তে বললেন উপাসক পরম পূজ্য বনভান্তে এর স্মরণে একটি গ্রন্থ প্রকাশনার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে এবং বেশ কয়েকজন জ্ঞানী ,দক্ষ ভিক্ষুর লেখার mgš^†qi পাশাপাশি কিছু সংখ্যক দায়ক দায়িকার লেখাও থাকবে। সে সব দায়ক দায়িকার মধ্যে আপনাকেও অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে ,আপনার কাছ থেকে একটি লেখা আহ্বান জানাচ্ছি । শ্রদ্ধেয় ভান্তের কথার সাথে আমিও সমর্থন জানিয়ে লেখবো ভান্তে বলে প্রতিত্তর করলাম । কিন্তু ফোন ছেড়ে দেয়ার সাথে সাথে আমার মনে প্রচন্ড প্রতিক্রিয়া শুরু হলো । মনে মনে ভাবলাম এ আমি কি বললাম ?কার সর্ম্পকে লেখার দুঃসাহস প্রকাশ করলাম?কি নিয়ে লিখবো ,কিভাবে লিখবো ?আমার ধর্ম্মতত্ত্ব ,ধর্ম্মজ্ঞান বলতে কিছুই নেই ,আর আমি কিনা ভান্তে সর্ম্পকিত প্রকাশনাতে লেখা তৈরী করবো ?এ সব চিন্তা ভাবনা আমার মনকে আড়ষ্ট করে তুললো । এমন ভাবনা ভাবতে ভাবতেই বাগানে পৌঁছলাম কিন্তু মনের প্রতিক্রিয়া আর দূর করতে পারিনা। কি যেন এক অজানা ভয় আমার মনকে জড়িয়ে ধরেছে । এমন ভাবনার দোলাচলে আমি মনে সাহস যোগাতে চেষ্টা করলাম। নিজেকে নিজে সান্তনা দিয়ে স্থির করলাম পরম পূজ্য ভান্তেকে নিয়ে আমার জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা,

মার দু-চোখে দেখা,আমার দু-কানে শোনা আর আমার ক্ষুদ্র জ্ঞানে যা বুঝেছি,যা উপলদ্ধি করেছি সেটুকুই আমার লেখনীতে প্রকাশের চেষ্টা  চালাবো ,আর চেষ্টা করবো পাঠক সমাজকে আমার লেখায়  সন্তুষ্ট করতে না পারলেও কারোর মনে বিরক্তি এবং মনোবেদনা সৃষ্টির কোন কারণ যেন না হয় ।

            রাঙ্গামাটির স্কুল জীবনে পরম পূজনীয় বনভান্তে এর নাম শুনেছি ,শ্রদ্ধেয় বনভান্তে সর্ম্পকে অনেকের কাছ থেকে অনেক ধরনের ঘটনার বিবরণ শুনেছি ।  তখনো দানের কথা,শীলের কথা বা ভাবনার কথা থেকে আমি ছিলাম যোজন যোজন দূরে । লোকমুখে শুনতাম শ্রদ্ধেয় ভান্তে মানুষের মনের সব গোপন কথা অনর্গল বলে দেন,কেউ কোন খারাপ কাজ করলে দেখার সাথে সাথে বলে ফেলেন আর সাবধান করেন । তথাপি আমার মনে শ্রদ্ধেয় ভান্তের প্রতি তেমন আকর্ষন সৃষ্টি করেনি তবে তাঁকে দেখার কল্পনা মনে মনে ধারন করেছি ।  শ্রদ্ধেয় ভান্তে তখন তিনটিলা (লংগদুতে) অবস্থান করছিলেন ,১৯৭৩ সনে লংগদুতে অনুষ্ঠিত হবে দানোত্তম কঠিন চীবর দান । সেটি কত তম আমার জানা নেই । আমরা কয়েক বন্ধু ঠিক করলা

ম এবারের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান উপলক্ষে তিনটিলা (লংগদু) যাবো । বন্ধুদের মধ্যে জ্ঞান জ্যোতি চাকমা লংগদু বাসী ,পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডে চাকুরী করতেন বর্তমানে সে আমারই প্রতিবেশী  এবং আমার বাসা (অনন্তমাষ্টার পাড়া) হতে মাত্র দুশগজ দূরে তার বর্তমান বাসা । তিনটিলা বন বিহারের অনতিদূরেই তাদের  নিজ বাড়ী (গ্রামের নাম সোন্যেই) । দিন বা তারিখ আমার মনে নেই,সকাল সাত কি সাড়ে সাতটায় রিজার্ভ বাজারের লঞ্চ ঘাটে গিয়ে মারিশ্যাগামী লঞ্চে উঠলাম আমি,জ্ঞান জ্যোতি,(ভাইবোনছড়া এলাকার ¯^bvgab¨ ব্যক্তিত্ব ¯^Mxq বংশীনাথ বাবুর বড় ছেলে) দূর্যোতি প্রসাদ বর্তমানে খাগড়াছড়ি সড়ক ও জনপথ বিভাগে কর্মরত,অপরজনের নাম এমূহূর্তে আমার জানা নেই,আমরা মোটামুটি চার জন ।  সেদিন প্রকৃতি ছিল খুবই বিরুপ,মুষলধারে প্রচন্ড বৃষ্টি ঝরছিল। যে দিকে তাকাই ঘন ঘোর অন্ধকার ,শুধু ঝুপঝুপ বৃষ্টিপতনের আওয়াজ । যেখানে যাচ্ছি সে গন্তব্য সর্ম্পকে আমার পূর্বে কোন অভিজ্ঞতা নেই । বন্ধুদের উপর ভরসা রেখেই আমার যাওয়া । বলতে কোন দ্ধিধা নেই,তখনো

                                                       ২-

পর্যন্ত আমার কঠিন চীবর দান সর্ম্পকে সুস্পষ্ট ধারনা নেই । আমার সুবলং এলাকায়ও কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান হয়,অন্যদের মতো আমিও যেতাম কিন্তু কঠিণ চীবর দানের তাৎপর্য সম্পর্কে আমার মনের

ধারনা তখনো ছিল অস্পষ্ট । সে দিনের অনুষ্ঠানেও কোন ধর্মীয় অনুভূতি নিয়ে আমার তিনটিলাতে যাওয়া নয়,নয় বা পূণ্য সঞ্চয়ের বাসনা নিয়ে,সেদিন আমার যাওয়াটা ছিল একমাত্র তিনটিলা ভ্রমন আর সুযোগ হলে  বনভান্তে নামধারী বন সাধককে  এক নজর দেখার চেষ্টা করা । রাঙ্গামাটি থেকে যাত্রাকালীন প্রকৃতির যে অবস্থা তিনটিলাতে গিয়েও সে একই অবস্থা । বেলা ১.০০ টার দিকে আমরা তিনটিলাতে পৌঁছলাম । পৌঁছে মনে হলো বিশাল এক মেলায় এলাম । যেদিকে তাকাই লোকে লোকারণ্য,নারী পুরুষের সমান সংখ্যায় ভর্তি সমস্ত পথঘাট,বাসাবাড়ী এমনকি পথের ছোট ছোট ঝুপড়িগুলোও । বৃষ্টি থামার লক্ষণও দেখা যাচ্ছেনা । আমরা তিনজন জ্ঞান জ্যোতির পদাঙ্ক অনুসরন করতে লাগলাম । সে সোজা তাদের এক  আত্মীয়ের বাসায় আমাদের তুললো,সেখানে মধ্যাহ্ন ভোজনপর্ব সেরে আমরা অনুষ্ঠানস্থলে যাবার প্রস্তুতি নিলাম । বাড়ীর আঙিনার বাইরে পা রাখার সুযোগ নেই,বৃষ্টি আর মানুষের ঢল আমাদের অনুষ্ঠানস্থলে যাবার এক বিশাল অন্তরায় সৃষ্টি করলো । আমি সম্পূর্ণ নতুন ,কোন্‌ দিকে বিহার বা কোন দিকে অনুষ্ঠান তার দিক নির্নয় করার মত অবস্থা তখন আমার ছিলনা । মাথার উপরে ঘন কালো মেঘ আর ঝুপঝুপ বৃষ্টি,সামনে পেছনে মানুষ আর মানুষ । আমাদের হাতে ছিলনা কোন ছাতা বা বিকল্প পোশাক,এ কারনে বৃষ্টি থামানোর প্রানান্ত চেষ্টা আমাদের । এমনি অবস্থায় আমরা বিহার থেকে সম্ভবতঃ দু-তিনশ গজের মতো দূরত্বে থাকতেই সব অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে শুধুমাত্র

শ্রদ্ধেয় ভান্তের দেশনা পর্ব চলছে আর দেশনার পর্বটিও তখন সমাপ্তির পর্যায়ে । পূণ্যার্থীদের ভীড়ে সামনে এগুনো যাচ্ছেনা ,এবং অল্প কিছুক্ষণ পরেই শ্রদ্ধেয় ভান্তের দেশনা শেষ হয়। সেদিনই মাত্র শ্রদ্ধেয় ভান্তের Kɯ^i শ্রবনের সুযোগ হলো,কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় তাঁর মুখ দর্শন লাভের সুযোগ আমার হলোনা ।  সন্ধ্যা,রাত অবধি কাছে ঘেঁষার সুযোগ নেই ,আর আমার অন্যান্য বন্ধুদের মনের অবস্থাও তাই,তাদেরও তেমন আগ্রহ দেখিনি,যে শ্রদ্ধেয় ভান্তের মুখদর্শন করবে । আমরা যেন সবাই একই মন মানসিকতা আর একই ধ্যাণধারনা সম্পন্ন লোক ছিলাম ।  শ্রদ্ধেয় ভান্তের দেশনা শুনেছি বটে কিন্তু কিছুই বুঝিনি ।আমরা কি জন্য এলাম ,কোথায় এলাম কিছুই যেন আমাদের সুনিদ্দিষ্ট নয় । ভবঘুরের মত এসেছি তাই,আমাদের ভবঘুরে অবস্থা । সব কিছু সাঙ্গ হলো অথচ কিছুই চোখে দেখা হলোনা ।অগ্যতা ঠিক করলাম রাতের আশ্রয় নেয়ার । আশ্রয় নিতে দেখি এখানেও জায়গা নেই ওখানেও নেই ,এভাবে গভীর রাত অবধি না ঠাঁই হলো জ্ঞানজ্যোতির নিজ বা আত্মীয় ¯^R‡bi বাড়ী ,না হোটেলে,হলোনা বা কোন গৃহস্থের বাড়ীতে । গভীর রাত পর্যন্ত মাথা গোজার ঠাঁই খুঁজতে খুঁজতে শেষ পর্যন্ত সেদিনের রাতে নিয়তি টেনে নিয়ে  আমাদের চার জনকে ঠাঁই করে দিলো এক হিন্দু পরিবারের স্যাঁতস্যাঁতে গোয়ালঘরে,তাঁর নিজের পালিত গরুগুলোর সাথে । একেতো গোয়াল ঘর তার উপর প্রচন্ড বৃষ্টি ভেজা রাত,শীতে আড়ষ্ট শরীর  আর অনাহার জনিত ক্ষুধার তীব্র জ্বালা যেন আর কিছুতেই তর সয়না । চারিদিকের ঘিনঘিনে পরিবেশ  কাঁচা পঁচা গোবরের গন্ধের এক নারকীয় অবস্থায় আমার মনোবল অসম্ভবভাবে ভেঙ্গে পড়লো । ক্ষিদের জ্বালায় আর শীতের তাড়

না প্রচন্ড কিন্তু কিছুই করার নেই । আমাদের সেখানে কেউ ডেকে নেয়নি বা কেউই সেখানে পাঠায়নি । নিরেট আমাদের কর্ম বিপাকের কারণেই তা ভোগ করতে অবধারিতভাবে সেখানে যেতে হয়েছে । আমরা গোয়ালঘরের বেড়া ভেঙ্গে আগুন জ্বালিয়ে শীতের তীব্রতা কমাতে চেষ্টা করলাম ।গোয়ালঘরের মালিক আমাদের অবস্থা দেখে এবং তার বাড়ীতে ঠাঁই দিতে না পারার জন্য খুবই পীড়িত হলেন । বেচারারও করার কিছুই নেই,তাঁর ঘরের আনাচে কানাচে লোক ভর্তি,বাজারের হোটেলের কোন লেপ,তোষক বা চট বালিশ নেই যা ভাড়া হয়নি । আমরা গোয়াল ঘরটিতে  জড়োসড়ো হয়ে চার জনে কোন রকমে বসার চেষ্টা করলাম ।  গোয়াল ঘরের মালিক আমাদেরকে তাঁর পুরো গোয়াল ঘরের বেড়াগুলো ভেঙ্গে আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের পরামর্শ দিলেন । এ কঠিন অবস্থায় কি করবো,কি করা যায় ভেবে কোন কিনারা করতে পারিনি । এমনি সময়ে হঠাৎ দূর্যতি প্রসাদের মনে জাগলো এক শয়তানী বুদ্ধি ,সে গোয়াল ঘরের মালিকের ঘরে এর কিছুক্ষণ আগেও ঘুরে এসেছে এবং দেখেছে সেখানে প্রচুর লোকজন পাটি বিছিয়ে মেঝেতে,বারান্দাতে ,কাঁচা মাটিতে শুয়ে আছে । সেখানে ঘুমন্ত লোকদের পিঠের নীচ থেকে তাদের আস্তে আস্তে সরিয়ে মাটিতে ফেলে দিয়ে একটি পাটি চুরি করে এনে আমাদের গোয়াল ঘরে বিছিয়ে ফেললো,আর আমরা আরাম করে বসার প্রস্তুতি নিতেই ওদিকে শুরু হয়েছে মহা হুলস্থুল গোলমাল । তারা একে অপরকে তাদের পাটি চোর সন্দেহ করছে । এমনি অবস্থায় আমরা বিছানো পাটি থেকে তড়িঘড়ি করে উঠে পাটিটাকে লুকিয়ে রেখে আগের অবস্থায় বসে পড়লাম এর কিছুক্ষণ পরেই বাড়ীতে থাকা লোকেরা আমাদের সন্দেহ করে পাটি খুঁজতে আসে ,ভাগ্যিস আমরা তার আগে পাটিটাকে লুকোতে সক্ষম হয়েছি তা না হলে সেদিনের সঞ্চিত মহা পূণ্যের ফল যে কি পেতাম শ্রদ্ধেয় পাঠক সমাজ ভাবতেই পারছেন নিশ্চয় ।এভাবেই সারাটি রাত শেষ করে পরদিন ভেজা কাপড় শরীরে রেখেই চলে আসলাম তিনটিলা ছেড়ে,আর শেষ হলো আমার জীবনের প্রথম বারের মতো অদেখা শ্রদ্ধেয় বনভান্তের Kɯ^i শ্রবনের অধ্যায়।তথাপি ভান্তেকে না দেখা বা আবারো দেখার ইচ্ছে জাগা অথবা মনে ভাল মন্দ উপলদ্ধি করার মতো মানসিকতার সৃষ্টি আমার তখনো হয়নি। ১৯৭৪ সাল শ্রদ্ধেয় বনভান্তে আসবেন রাঙ্গামাটি । এ বছর রাঙ্গামাটিতে দানোত্তম কঠিন চীবর দান উদযাপিত হবে । এ উপলক্ষে রাঙ্গামাটিতে সাজ সাজ রব ।

  -৩-

প্রচুর লোক সমাগম হবে । অনুষ্ঠানকে সার্থক সুন্দর করতে নেয়া হয়েছে উপযুক্ত ব্যবস্থা । গঠন করা হয়েছে বিশাল এক †¯^”Qv†meK বাহিনী । ডাঃ রতন খীসা সেদিনের †¯^”Qv সেবক বাহিনী প্রধান নিয়োজিত হলেন । আমরা স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা হলাম সৈনিক,আমাদের যা হুকুম হবে তাই তামিল হওয়া চাই। শুরু হলো অনুষ্ঠান আয়োজনের। বর্তমান রাজ বনবিহারটি তখন ছিল গভীর অরণ্যে ঘেরা একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ।  বর্তমান রাজ বন বিহারের বিহার পরিচালনা কমিটির কক্ষ হিসেবে যে স্থানটি ব্যবহৃত হচ্ছে সে স্থানের উঁচু স্থানে শ্রদ্ধেয় বন ভান্তের জন্য একটি কাঁচা কুঠির কাম বিহার,ছোট্ট আকারের ভোজনশালা,শ্রদ্ধেয় ভিক্ষু সঙ্গের কুটির,সংক্রমন ঘর,নির্মান করে দেয়া হয়,যা পরবর্তীতে কুঠিরের আরো কিছু সংস্কার করে  দীর্ঘ প্রায় ১৪/১৫ যাবৎ মূল রাজ বন বিহার হিসেবে পরিচয় বহন করেছিল। পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তকে তিনটিলা বনবিহার থেকে রাঙ্গামাটিতে আনা হলো । সেদিনের তারিখটি আমার মনে নেই । আমার স্মৃতি ভ্রম না হয়ে থাকলে সম্ভবতঃ তিনি ১৯৭৪সালের অক্টোবর মাসের ২৪ তারিখে রাঙ্গামটিতে শুভাগমন করেছেন । একটি ইজ্ঞিন চালিত সুন্দর সাঝানো দেশীয় বোটে শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে এবং শিষ্যমন্ডলীকে অন্যবোটে  নিয়ে আসা হলো । সেদিনই শদ্ধেয় বনভান্তেকে আমার প্রথম বারের মত প্রত্যক্ষভাবে দর্শনলাভ । †¯^”Qv সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালনের সুবাদে তখন ভান্তের সান্নিধ্যে যাবার সুযোগ ছিল অবারিত । কিন্তু তখনও আমার চিন্তা চেতনায় কোন ধর্মীয় অনুভূতি সৃষ্টি হয়নি,কে

বল একটি দায়িত্ব পালনের খাতিরেই ঘোরাফেরা মাত্র । সেদিনের অনুষ্ঠানের আগে পরের দিনও ছিল প্রচন্ড বৃষ্টি আর ঝড়ো হাওয়া । লোকে লোকারণ্য রাঙ্গামটি সারা শহর । লঞ্চ ভর্তি,গাড়ী ভর্তি মানুষ সবাই যেন শুধু কঠিন চীবর দানস্থলে ছুটে যাচ্ছে । সারা রাঙ্গামাটি শহরের চিত্রটি যেন উৎসব মুখর পরিবেশ । দল বেঁধে আবাল বৃদ্ধ বণিতা কেবলই আসছে। সবার চোখে মুখে হাসি আর আনন্দের চাপ।এমনি উৎসব মূখর মূহূর্তে ঘটে গেলো এক হৃদয় বিদারক মর্মান্তিক দূর্ঘটনা,২৭ অক্টোবর (আমার স্মরণে যা আছে ) কাপ্তাই থেকে রাঙ্গামাটি অভিমুখে আসা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ ডিসি বাংলা বরাবর দক্ষিণের বিশাল অংশের মধ্যস্থানে ডুবে গেছে এতে বহু যাত্রী নিঁেখাজ,মৃত্যুবরণ করেছে । সারা রাঙ্গামটি শহরের চিত্র যেন নিমেষেই অন্যরুপ ধারন করলো । সবার চোখে মুখে কান্না আর বিষাদের কালো ছায়া । শুরু হলো আত্মীয় ¯^Rb‡`i আহাজারী,খোঁজাখুঁজি । মূহূর্তেই সারা শহরে নেমে এলো  পিন পতন নীরবতা আর শোকাবহ পরিবেশ ।  বিহারমূখী মানুষ সবাই যেন হাসপাতাল আর ডুবেযাওয়া লঞ্চের অকুস্থলে  । আমরা †¯^”Qv‡me‡Ki একটি দল হাসপাতালে গেলাম । বর্তমান জেলখানার উত্তর পুর্বের স্থানে তখন রাঙ্গামাটি হাসপাতালটির অবস্থান । সমস্ত হাসপাতাল বারান্দায় একেকটি লাশ জড়ো করা হ্‌েয়ছে । একে একে সতরটি লাশ আমি তখন গুনেছি এর পরে আর কত লাশ এসেছে বা নিখোঁজ রয়েছে সেদিনের ঘটনা আর স্পষ্ট আমার মনে নেই । হাসপাতালে শুয়ে রাখা নিথর দেহের লাশগুলো দেখে আমার

প্রচন্ড এক ঝাঁকুনি দিলো,আর মরণ নিয়ে তৈরী হলো এক অন্যরকম অনুভূতি ।এরুপ বিভৎস ঘটনা সচক্ষে প্রত্যক্ষ করা আমার জীবনেই প্রথম। মনে মনে ভাবলাম  তাহলে একেই বলে মৃত্যু,আর মুত্যুর পরে বেশই ধারন করতে হবে সবাইকে। আর কিছুক্ষন পরে তাদের দেহ ভস্ম হয়ে শূণ্যে মিলিয়ে যাবে তাদের পরিণতি আমাদেরও সবাইকে একদিন বরণ করে নিতে হবে অবধারিতভাবে , অবস্থা থেকে পরিত্রাণের সুযোগ কারোর নেই রাঙ্গামাটিতে প্রথম বারের মতো দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্টান ঘটা করেই হলো । পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তে তাঁর মূল্যবান দেশনায় লঞ্চে দূর্ঘটনা কবলিত মানুষের এ করুণ পরিণতি সম্পর্কে সেদিন বলেছিলেন তথাগত বুদ্ধের সময়েও এরুপ অনেক ঘটনা রয়েছে  । তিনি বলেছিলেন প্রচন্ড এক পাপী ব্যক্তিকে দেবতাগন খুঁজতে গিয়ে এবং তাকে তুলে নিতে গিয়ে লঞ্চকে ওলট পালট করেছে এবং তাতেই নীরিহ লোকেদেরও একই পরিনতি  ঘটেছে তবে,যারা নীরিহ তারা সবাই ¯^M©evmx হবেন। আমার মতো সেদিনের কালের ¯^vÿx হয়ে যারা ছিলেন তারাও অবশ্যই সে দেশনাটি শুনেছেন । এর পরের বছর থেকে রাঙ্গামাটিতে শুরু হতে থাকলো শ্রদ্ধেয় বনভান্তের উপস্থিতিতে দানোত্তম কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানের এবং শ্রদ্ধেয় বনভান্তে এর পরেরর বছর থেকে রাঙ্গামাটি রাজ বনবিহারে অবস্থান শুরু করেন । ধীরে ধীরে রাজ বনবিহারের অগ্রযাত্রা শুরু হলো । পরম শ্রদ্ধেয় ভান্তে শুরু করলেন তাঁর লব্ধ জ্ঞান ভান্ডার বিলিয়ে দেয়ার কাজ। সুদীর্ঘ ১২ বছরের কঠোর সাধনাব্রত পালনের পর তিনি সকলের হিত সাধনে নিয়োজিত করলেন নিজেকে ।  আমি একটু একটু শ্রদ্ধেয় ভান্তের কাছে ঘেঁষতে শুরু করলাম । কিন্তু ধর্মীয় চেতনা বা উপলব্দি তখনো কোন কিছুই আমার রপ্ত হয়নি । সকলে ভান্তের ওখানে যান দেখাদেখিতে আমিও যাই । আমি পরম শ্রদ্ধাভরে ওনাকে ভক্তি করবো,পূজা করবো সেরুপ জ্ঞান ,চেতনা আমার তখনো উদয় হয়নি ।

 আমার মনে রেখাপাত করার মতো উল্লেখযোগ্য ঘটনার আরো একটি দিন ছিল,১৯৭৯ সালের একদিন। তারিখ এবং বার আমার মনে নেই। রাজ বনবিহার পরিচালনার বিভিন্ন কাজে আমাকেও অর্ন্তভূক্ত করা হয় । সেদিন কার্যক্রম পরিচালনা কমিটির একটি সভা হয়,সভার পরে আমরা ৫/৬ জনে শদ্ধেয় ভান্তের দর্শন করবো আর মূল্যবান দেশনা শ্রবন

                                                            -৪-                                                       

করবো এ বাসনা নিয়ে বসে পড়লাম শদ্ধেয় ভান্তের কক্ষে । ক্ষুদ্র পরিসরের ছিল ভান্তের কক্ষটি ,আমরা বসার অল্প কিছু সময় পড়েই শ্রদ্ধেয় ভান্তে তাঁর আসনে বসলেন আর আমরা তাঁর একেবারেই মুখোমুখি সামনে বসে পড়েছি । আমি তুলনামূলকভাবে সবার থেকে আরো অধিক কাছে ,ভান্তের প্রায় হাত দুয়েক দূরত্বে বসেছি ।  শ্রদ্ধেয় ভান্তে দেশনা শুরু করলেন । দেশনা শুরুর সাথে সাথে আমার কি যেন এক অন্যরকম মন তৈরী হলো ,একেবারেই মুখোমুখি হলেও আমার প্রচন্ড একটি ঘুম ঘুম ভাবের Avj¤^b তৈরী হলো । ভান্তের একটি কথাও আমার কানে ঢুকছেনা আর শত চেষ্টাতেও চোখ মেলে থাকতে পারছিনা । দুটি আঙুল দিয়ে বরাবরই চোখের পাতাগুলো ফাঁক করছি কিন্তু মোটেও ফাঁক করতে পারিনা । শুরুটা মনে আছে আমরা পঞ্চশীল গ্রহন করেছি আর ভান্তের সবশেষের একটি  কথা মনে আছে  সেটি হলো –  ’’হয়েছে  তোমরা এবার যাও   এর আগে,এর মধ্যে তিনি কি বলেছেন,কি প্রসংগে দেশনা করেছেন তার একটি শব্দও আমার কানে ঢুকেনি । অথচ আমার জীবনে সেটিই প্রথম ঘটনা যে,একেবারেই কাছে থেকে ভান্তেকে দেখা আর মুখনিঃসৃত দেশনা শোনা ।  সেদিনের ঘটনার পর থেকেই আমার মানসিক প্রতিক্রিয়া অন্যরকমভাবে শুরু হলো ।  ধীরে ধীরে আমার মনে চিন্তা উদয় হলো ,তিনটিলা বনবিহারে গিয়ে আমি পূণ্যের ফল ভোগ না করে পাপের ফলই ভোগ করে এসেছি । তা নাহলে সেখানে জড়ো হওয়া হাজার হাজার নরনারীর অবস্থা একরকম,আর আমারটা্‌ কেনইবা হলো অন্যরকম ?সব পূণ্যার্থীদের জন্য যদি ভাঙা গৃহকোণে হলেও মাথা গোজার ঠাঁই জুটতে পারে আর আমাদের চার জনের জন্য কেনইবা স্যাঁতস্যাঁতে পূর্ণ গোয়াল ঘরে,আর আমরাই বা কেন একমাত্র সে জায়গাটাতে আশ্রয় নিলাম ?অথচ জ্ঞান জ্যোতি চাকমার বাড়ী সেখানে,তার ঘনিষ্ট আত্মীয় ¯^Rb‡`i বাড়ীও সেখানে । তার নিজ বাড়ী নাহয় একটু দূরে,কিন্তু নিকট আত্মীয় ¯^Rb‡`i

বাড়ীতো অতঃ দূরে নয় । নেহায়েৎ একজনের কি কোন ঘর নেই যেখানে আমাদের মাথা গোঁজা যায়?এবারেই মর্মে মর্মে উপলদ্ধি করছি আমাদের অবধারিত কর্মের ফল নিশ্চিতভাবেই ভোগ করতে হলো । সেখানে যে নারকীয় পরিবেশ,ক্ষণিকের ভূক্তভোগী হিসেবে আমি এবং আমার সহপাঠিরাই একমাত্র উপলদ্ধি করেছি । আমার জানা নেই,আমার সে দিনের সহপাটিদের  আজো সে দুঃসহ স্মৃতি মনে আছে কিনা বা সে স্মৃতি মনে করে তাদের গা শিহরিত করে কিনা ,কিন্তু আমার যখন সে স্মৃতি চোখে ভাসে আমাকে আজো প্রচন্ড ঝাঁকুনী দিয়ে গা শিহরিত করে তোলে।  জীবনের পর পর এ দুটি ঘটনা আমার মনকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে,আমি অত্যন্ত ভীত সন্ত্রস্ত হলাম । এক সময় শ্রদ্ধেয় ভান্তের প্রতি আমার লালিত ছিল অভক্তি আর অশ্রদ্ধা ,কতিপয় দূরাচার সঙ্গীর পাল্লায় পড়ে  অন্যান্যদের মতো  আমিও দু একবার আমার অবচেতন মনে ব্যাঙ্গ্যাত্মক মন্তব্য করেছিলাম সেগুলো আস্তে আস্তে আমার স্মৃতির পর্দায় ভেসে উঠতে লাগলো আর মনে মনে শ্রদ্ধেয় ভান্তের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতাম হে পূজ্য ,আমার পরম শ্রদ্ধেয় ভান্তে জীবনে জ্ঞাতসারে বা অজ্ঞাতসারে হোক আমি অতীতে যে ভূল করেছি সে ভূল আর কোনোদিন করবোনা,আপনি আমায় ক্ষমা করুন । ভান্তে রাঙ্গামাটি রাজ বন বিহারে অবস্থান নেয়ার পর  আমি প্রায় প্রতিনিয়তই ভান্তের কাছাকাছি যেতে শুরু করলাম । ভান্তের ওখানে যাবার আগে প্রার্থনা করতাম আর যেনো কখনো সে সব ঘটনাগুলোর পুনরাবৃত্তি না ঘটে । আমার ভাগ্য ভাল সেদিনের পর থেকে আমাকে তেমন আর কোন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। এ জন্য পরম পূজ্য ভান্তের প্রতি জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা আর প্রার্থনা করি অণির্বান কাল যাবৎ জনমে জনমে আমি যেন এমন সিদ্ধ মহা পুরুষের আশীর্বাদ পুষ্ট হই এবং অন্তিমে নির্বান লাভের হেতু উৎপন্ন করতে পারি । একইভাবে আমার পিতা মাতা,ভাইবোন,স্ত্রী পুত্র পরম আত্মীয় ¯^Rb, বন্ধু আর হিতকাঙ্খী সবাই একই সুফল লাভের ভাগীদার যেন হয় ।

রাঙ্গামাটি রাজবনবিহারে শ্রদ্ধেয় ভান্তে অবস্থানের পর থেকে যেন পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে গেলো । শ্রদ্ধেয় ভান্তের প্রতি মানুষের ভক্তি,শ্রদ্ধা গভীরভাবে বেড়ে গেলো । পার্বত্য এলাকার আনাচে কানাছে মানুষের মনে ভান্তের প্রতি সমান শ্রদ্ধা ভক্তি বাড়তে থাকলো আর তা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেতে লাগলো । দায়ক ভক্তদের কে কোন দানটি করবেন কি দান করবেন যেন এক তীব্র প্রতিযোগীতা । এ মূহূর্তে দান করতে না পারলে যেন ভবিষ্যতে দান দেয়ার সুযোগ আর আসবেনা । যারা এক সময় শ্রদ্ধেয় ভান্তের প্রতি অশ্রদ্ধাচিত্ত ,তাদেরও ধীরে ধীরে মনের পরিবর্তন হতে শুরু করলো ,তারাও ক্রমে ক্রমে অসম্ভব রকমের ধার্মিক বনে গেলো । দিকে দিকে শ্রদ্ধেয় ভান্তের প্রভাব চতুর্দিকে বিস্তৃতি লাভ করলো। 

মূহূর্তের মধ্যে সারাদেশময়,বিশ্বময় নাম ডাক ছড়িয়ে পড়লো । দেশের এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র প্রধান,সরকার প্রধান,মন্ত্রী,সচিব থেকে শুরু করে সামরিক,বেসামরিক শীর্ষ কর্তাগনও শ্রদ্ধেয় ভান্তের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েন । বিভিন্ন রাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত,কূটনৈতিক বৃন্দও সমানে শদ্ধেয় ভান্তে সমীপে দর্শন লাভ করতে লাগলেন আর নানা রাষ্ট্রে গমনের আমন্ত্রন জানাতে থাকেন । কিন্তু শ্রদ্ধেয় ভান্তে কোন রাষ্ট্রের আমন্ত্রন গ্রহন করেননি এমনকি সরকার প্রধানের আমন্ত্রনেও ঢাকা বা অন্যান্য স্থানে গমন করেননি ।  দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দলে দলে লোকের সমাগম শুরু হলো,তারই পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে যে কোন পর্যটক রাঙ্গামাটি আগমন করলেই রাজ বনবিহার এবং শ্রদ্ধেয় ভান্তের দর্শন লাভ করে যান অবশ্যই । ক্রমে ক্রমে শ্রদ্ধেয় ভান্তের শিষ্য মন্ডলীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে লাগলো । সে সাথে বুদ্ধের দেশিত নীতি অনুসরনে

-৫-

ধর্মীয় ,সামাজিক ক্রিয়াকলাপের চর্চা শুরু হলো। রাজবন বিহারে প্রতিদিন লোকে লোকারণ্য । কি বিশেষ দিনে বা অন্যান্য দিন কোন দিনই মানুষের সমাগমের বিরতি নেই । কেউ ভান্তেকে দেখার জন্য আসতেন,কেউবা নিজের নানা সমস্যা ভান্তেকে জানানোর জন্য আর সমাধান পাবার বিশ্বাসে ।  কে কোন্‌ সমপ্রদায়ের বা কে কোন ag©vej¤^x সে কোন বিবেচ্য নয় ,ভান্তের দৃষ্টিতে সব ধর্মের লোক একই,আর সেখানে সব ধর্মের সব সমপ্রদায়ের লোকের জন্য অবারিত । অনুরুপভাবে নানা সমপ্রদায়ের ভক্তকুল নিজেদের জাত,ধর্ম বা সমপ্রদায় বাছ বিচার না করে শ্রদ্ধেয় ভান্তের আশীর্বাদ কামনা করতে লাগলেন । বুদ্ধের ধর্মীয় তিতিগুলোতে লোক সমাগমের তুলনা নেই ,বৈশাখী পূর্ণিমা,প্রবারণা পূর্ণিমা,আষাঢ়ী পূর্ণিমা,শ্রদ্ধেয় ভান্তের জন্মদিন সহ কোন তিথিতেই মানুষ সমাগমের কমতি নেই । সব চেয়ে বেশী লোক সমাগম হতো দানোত্তম কঠিণ চীবর দান অনুষ্ঠানে ।দানোত্তম কঠিণ চীবর দান অনুষ্ঠানে সরাকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী,আমলা থেকে শুরু করে দেশী বিদেশী রাষ্ট্রদূত,ক্থটনৈতিকগনও প্রতিবছরের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে থাকেন। শ্রদ্ধেয় ভান্তে সকল স্তরের ভক্তবৃন্দকে তাদের মন মানসিকতা বিশা্বস আর শ্রদ্ধার গভীরতা দেখে ,মানুষের শ্রেণী বিবেচনায় দেশনাগুলো দিতেন। যে দায়কের জ্ঞানের গভীরতা যত ,তাঁর দেশনার গভীরতাও হতো তত। এতে সকল শ্রেণীর দায়ক কিংবা দায়িকা সহজেই ভান্তের দেশনাগুলো উপলদ্ধি করতে সক্ষম হতেন । দান,শীল,ভাবনা সর্ম্পকে সম্যক ধারনা দিয়ে আস্তে আস্তে ¯^a¤§©cÖvY দায়ক দায়িকাদের দান পথে,শীল পথে,ভাবনার পথে টেনে নিয়ে যেতে শুরু করলেন । শ্রদ্ধেয় ভান্তের আবির্ভাব পার্বত্য এলাকার বৌদ্ধদের মনে দারুনভাবে প্রভাবিত করেছে, আমি বলবোনা,সকলে বৌদ্ধ ধর্মের প্রতি গভীরভাবে অনুরক্ত হয়ে পড়েছেন ,কিন্তু এটি A¯^xKvi করার কোন সুযোগ নেই যে,পার্বত্য এলাকার বৌদ্ধ সমপ্রদায়ের মন মানসিকতার এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে যে পরিবর্তনটি মানবিক গুণবালীর এবং সমাজ ধর্মের জন্য খুবই ইতিবাচক । আমার একান্ত বিশ্বাস,ভান্তের আবির্ভাবের আগে এক সময় পার্বত্যা এলাকার বৌদ্ধরা যে কোন অকুশল কর্ম অত্যন্ত ¯^vfvweK ভাবে সম্পাদন করতেন,কিন্তু পরবর্তীতে সে দিকে পা বাড়ানোর আগে,যে কাউকে  অন্ততঃ একবার হলেও ভাবায় । শ্রদ্ধেয় ভান্তে যখন ধর্ম্মপ্রচার কার্য শুরু করলেন সে সময় সারা পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি ছিল খুবই জটিল । চারিদিকে গোলাগুলি,রক্তপাত,অগ্নিসংযোগ ,ধরপাকড় ,জেল জুলুমের এক নারকীয় পরিবেশ । মানুষের জীবন একটি মূহূর্তের জন্যও নিশ্চয়তা নেই । এ পরিস্থিতিতে শ্রদ্ধেয় ভান্তে একদিকে সরকারের সামরিক বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিভিন্নভাবে বোঝাতেন আর অন্যদিকে পার্বত্য এলাকার দায়ক দায়িকাদের সাম্য,মৈত্রী ,করূণাভাব পোষনের মাধ্যমে বুদ্ধের প্রতি অগাধ বিশ্বাস শ্রদ্ধা অক্ষুন্ন রেখে বুদ্ধ প্রদর্শিত নীতিতে অবিচল থাকার উপদেশ বাণী প্রচার করতে থাকেন । সে সময়ের প্রতিটি দিন ছিল মহা দূর্যোগপূর্ণ এবং ভয়ঙ্কর অবস্থা । একমাত্র শ্রদ্ধেয় ভান্তে এবং তাঁর শিষ্যমন্ডলী পার্বত্য এলাকার আনাচে কানাচে অবাধে যাতায়ত করতে সমর্থ হতেন এবং তাঁর চলাচলে কোন ধরনের বাধা বা বিপত্তি হতোনা । আমি তখন প্রায় সময়ই রাজ বনবিহারের সাথে সম্পৃক্ত থাকতাম । সেদিন যারা রাজ বনবিহারের গুরু দায়িত্ব পালন করেছিলেন (১৯৭৯-৮০ সালে ) তাদের মধ্যে আজ অনেককেই আর দেখিনা তাদের অনেকেই বেঁচে নেই ।

আমি সে সময়ে ছিলাম সর্ব কনিষ্ঠ সদস্য ।

            পরম শ্রদ্ধেয় ভান্তের নৈকট্য লাভের কাছাকাছি সময়ে হঠাৎ ছেদ্‌ ধরলো সেটির । আমাকে বদলী আদেশ জারী করা হলো খাগড়াছড়িতে ১৯৮১ সালের প্রথম দিকে। সে সময় খাগড়াছড়ি ছিল পার্বত্য চট্টগ্রাম জেলার অধীনে একটি মহকুমা । পার্বত্য চট্টগ্রাম এলাকার পরিস্থিতি খুবই জটিল থাকার কারনে রাঙ্গামাটি খাগড়াছড়ি ¯^v”Q‡›`¨ আসা যাওয়া করার পরিস্থিতি  ছিলনা । একান্ত জরুরী প্রয়োজন ছাড়া কারোর চলাফেরা  হতোনা। ভান্তের বিশেষ বিশেষ ধর্মীয় কর্মসূচীতে ছাড়া  অন্য সময়ে যাওয়ার সুযোগ একবারেই হয়না বলা চলে। কিন্তু দূর থেকে  শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে স্মরণ করতাম অবিরাম । যে কোন বিপদের মুখোমুখি হবার সম্ভাবনা দেখা দিলে,বা কোন সমস্যা সৃষ্টি হলে শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে মনে প্রাণে স্মরণ করতাম আর দেখ

তাম সত্যি সত্যি আমি বিপদ মুক্ত হতে পেরেছি । আমি জানিনা অন্যজনের বেলায় কি ঘটেছে । দেখতে দেখতে এভাবে প্রায় ৫/৬ বছরের পর শ্রদ্ধেয় ভান্তে খাগড়াছড়ি শুভাগমন শুরু করলেন তবে একান্ত বিশেষ বিশেষ সময়ে তাও বছরে হয়তো একবার। পরবর্তীতে ১৯৮৮-৮৯ এর দিকে খাগড়াছড়িতে ভান্তের গমনা গমনের মাত্রা বেড়ে গেলো । বিশেষ করে ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে বেশী । ঐ সময় তৎকালীন পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ (বর্তমানে পার্বত্য জেলা পরিষদ) গঠিত হবার পর আমাকে সেখানে দায়িত্ব পালনের জন্য নেয়া হলো । নতুন পরিষদের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের mgš^‡q গঠিত হলো পার্বত্য জেলা স্থানীয় সরকার পরিষদ । ১৯৮৯ সনের ২৫জুন,অনুষ্ঠিত হয় স্থানীয় সরকার পরিষদের নির্বাচন ।চাকমা,মারমা,ত্রিপুরা এবং বাঙালী সম্পদ্রায় হতে  ৩০ জন সদস্য নির্বাচিত হন এবং বাবু সমীরণ দেওয়ান নির্বাচিত হন পরিষদের প্রথম চেয়ারম্যান । ব্যক্তিগতভাবে তিনিও অত্যন্ত ¯^a¤§©cÖvY দায়ক এবং পরম শ্রদ্ধেয় ভান্তের প্রতি ছিলেন গভীর অনুরক্ত । তিনি পরিষদের চেয়ারম্যান এর দায়িত্ব লাভের সুবাদে শ্রদ্ধেয় ভান্তে খাগড়াছড়ি আগমন করলে নির্দ্ধিধায় তাঁর নিজস্ব ব্যবহৃত চেয়ারম্যানের গাড়ীটি শ্রদ্ধেয় ভান্তের জন্য সবসময় সংরক্ষণ করে

  -৬-

দিতেন । বিশেষভাবে আমাকে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন ভান্তের যেখানে যেখানে আমন্ত্রন রয়েছে সেখানে চলাচলে যেন কোনক্রমেই ব্যাহত না হয় । শুধু নিজের গাড়ী নয় পরিষদের যতগুলি গাড়ী আছে শ্রদ্ধেয় শিষ্যমন্ডলীকে বহনের জন্যও অপরাপর গাড়ীগুলো সংরক্ষিত থাকতো । অনেক সময় বছরে দুই/তিনবারও শ্রদ্ধেয় ভান্তে খাগড়াছড়ি আসতেন ,তখন তাঁকে শারিরীক বার্ধক্যে ভর করেনি এবং শারিরীক শক্তিও যথেষ্ট ছিল । খাগড়াছড়ি যখন আসতেন ধর্মপুর আর্য বনবিহার নির্মিত না হওয়া অবধি তিনি মহাজনপাড়া জনবল বৌদ্ধ বিহারেই অবস্থান করতেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন বিহারে ,দায়ক দায়িকাগনের ফাঙ এ যেতেনে । শ্রদ্ধেয় ভান্তের খাগড়াছড়ি শুভাগমন হলে আমরা সবাই দলবদ্ধ হয়ে বাস ,কোষ্টার,মাইক্রোবাস,মোটর সাইকেল নিয়ে যার যেভাবে সম্ভব শত শত দায়ক,দায়িকা ভক্ত বিশাল গাড়ী বহর নিয়ে রাঙ্গমাটি থেকে আনতে যেতাম,যেন শ্রদ্ধেয় ভান্তে আর দায়ক-দায়িকার বিরাট এক মিলন মেলা । আমরা সামনে পিছে মোটর সাইকেলে শ্রদ্ধেয় ভান্তের গাড়ীকে সারিবদ্ধ করে ধীরে ধীরে এগিয়ে নিয়ে আসতাম। অনুরুপভাবে খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি পৌঁছে দেয়ার সময়ও সেভাবে নিয়ে যেতাম । পথের দুধারের আবাল বৃদ্ধ বণিতা ঝাঁক বেঁধে সে সব দৃশ্য মনভরে উপভোগ করতেন আর শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে এক পলক দেখতেন এবং নানা দানীয় সামগ্রী দান করতেন । মাঝে মাঝে শ্রদ্ধেয় ভান্তে গাড়ী থামিয়ে উপস্থিত দায়ক দায়িকাদের উদ্দেশ্যে দেশনা দিয়ে সবাইকে কুশল আর্শীবাদ করে আসতেন । শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে রাঙ্গামাটি থেকে নিয়ে আসার পথে অথবা খাগড়াছড়ি থেকে রাঙ্গামাটি পৌঁছে দেয়ার সময়ে পথের দুধারে সারি সারি দর্শকদের দৃশ্যগুলো দেখে আমার খুব ভাল লাগতো আর নিজেকে নিজে অত্যন্ত গর্ববোধ করতাম। জনবল বৌদ্ধ বিহারের পরিচালনা পরিষদের গুরু দায়িত্ব পালন এবং জেলা পরিষদে চাকুরীর সুবাদে শ্রদ্ধেয় ভান্তের খাগড়াছড়ি শুভাগমন হলে আমি অধিকাংশ সময়ই ভান্তের কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং পরিষদের পক্ষ হতে আমি সকল যানবাহন পরিচালনা এবং ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করতাম ,আর এ দায়িত্ব পালনের ভার লাভের জন্য আমি নিজেকে বড়ই সৌভাগ্যবান মনে করতাম । শ্রদ্ধেয় ভান্তে খাগড়াছড়ি আগমন করলে বিভিন্ন স্থানের দায়ক দায়িকা আমার সাথে যোগাযোগ করতেন এবং আমি যানবাহন ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ভান্তের সাথে সাথে আমাকেও নিমন্ত্রন করতেন দায়ক-দায়িকারা । এ সব দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আমার শ্রদ্ধেয় ভান্তে এবং শ্রদ্ধেয় শিষ্যমন্ডলীর অধিকাংশের সাথে ঘনিষ্ট হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়,আমার বিশ্বাস শদ্ধেয় ভান্তের শিষ্য মন্ডলীর আজো প্রায় সকল ভান্তেই আমাকে চেনেন। অনেক সময় অনেকে শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে তাদের নিজেদের বিহারে বা বাসা বাড়ীতে আমন্ত্রন জানাতে গেলে শ্রদ্ধেয় ভান্তে সম্মত হতেন না নিতান্ত পীড়াপীড়ি করে,  অনেক জনের সুপারিশ,অনুরোধের দরকার হতো। আমিও একজন কাছে থাকা দায়ক হিসেবে নিজে সুপারিশ করতাম জোর দিয়ে ,তখন দেখি শ্রদ্ধেয় ভান্তে সে দায়ক-দায়িকার ফাঙ অনুমোদন করতেন । আমার তখন খুব ভাল লাগতো আর নিজেকে ধন্য মনে করতাম যে একটি পূণ্যের ভাগীদার হতে পারলাম । শ্রদ্ধেয় ভান্তে যতবার খাগড়াছড়ি শুভাগমন করতেন ততবারই চেষ্টা করেছি  আমার বাসায় ওনার পদধূলি নিতে এবং ভান্তের অসীম করুণাতে সেটি সার্থকও  হয়েছি । অনেক সময় আমার বাড়ীতে আমন্ত্রন জানালেও আমারটিও তিনি সহসা গ্রহন করতেননা ,অনেকের সুপারিশ বন্দনার দরকার হতো,তবে শ্রদ্ধেয় ভান্তে যখনই খাগড়াছড়ি শুভাগমনের সংবাদ পাই তখনই আমি আমার বাড়ীতে শ্রদ্ধেয় ভান্তের উদ্দেশ্যে সকল আয়োজন

আগে ভাগে করে রাখতাম এবং সে গুলো খুব মন অন্তর দিয়ে যথাযোগ্য মর্যাদাপূর্ণভাবে করার চেষ্টা করতাম। শ্রদ্ধেয় ভান্তে যে কোন দায়ক-দায়িকার ফাঙ সহজেই অনুমোদন ক

রেছেন এরুপ ঘটনা অত্যন্ত কম । যখন ফাঙ করার পরিকল্পনা করতাম মনে প্রচন্ড ভয় কাজ করতো তিনি আমার ফাঙ অনুমোদন করবেন কিনা,রাত দিন চিন্তায় চিন্তায় ঘুম হতোনা ।  এসব কাজে সর্বাত্মকভাবে এবং অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে সহায়তা করেছেন শ্রদ্ধেয় ভান্তের অতি নিকটে থাকা শ্রদ্ধেয় ভিক্ষুসংঘের মধ্যে শ্রীমৎ বোধিপাল ভান্তে (গামারীঢালা বনবিহারের শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ),শ্রীমৎ প্রজ্ঞালঙ্কার ভান্তে (বর্তমান রাজ বনবিহারের সঙ্ঘ প্রধান),শ্রীমৎ  ভৃগুভান্তে (ফুরামোন ভাবনা কেন্দ্রের বর্তমান অধ্যক্ষ),  শ্রীমৎ ভদ্দজী ভান্তে (ধর্ম্মপুর আর্য বনবিহারের বর্তমান আবাসিক প্রধান) শ্রীমৎ শাসন রক্ষিত ভান্তে,(পানছড়ি অরণ্য কুঠিরের বর্তমান শ্রদ্ধেয় বিহারাধ্যক্ষ) শ্রীমৎ পূর্ণজ্যোতি ভান্তে রাজ বনবিহারে),শ্রীমৎ সৌরজগৎ ভান্তে ( রাজ বনবিহার),শ্রীমৎ জ্ঞানপ্রিয় ভান্তে ( রাজ বন বিহার),শ্রীমৎ বিমলানন্দ ভান্তে(খাগড়াছড়ি ইটছড়ি মৈত্রীপুর ভাবনা কেন্দ্রের শ্রদ্ধেয় অধ্যক্ষ) প্রমূখসহ আরো অনেক শ্রদ্ধেয় ভান্তে। আমি পরম শ্রদ্ধাভরে তাঁদের প্রতি ¯^-K…ZÁ বন্দনা জানাচ্ছি এবং আমার সঞ্চিত পূণ্যরাজি অকৃত্রিমভাবে ওনাদের সমীপে সমর্পণ করছি।

            আগেই উল্লেখ করেছি,শ্রদ্ধেয় ভান্তে যখন খাগড়াছড়ি অবস্থান করতেন  মহাজনপাড়া জনবল বৌদ্ধ বিহারেই অবস্থান করতেন । আমরা প্রতিদিন আগেভাগে রাতের খাবার পর্ব শেষ করে দল বেঁধে জনবল বৌদ্ধ বিহারে জড়ো হতাম । রাত যত গভীর থেকে গভীরতর হয় ততই তাঁর মর্মস্পর্শী দেশনা করতেন ,দেশনাগুলো ছিল খুবই প্রাজ্ঞল,সহজ সরল এবং তাৎপর্যপূর্ণ । একেক দিনে একেক ধরনের দেশনা করতেন । যে দায়ককে অত্যন্ত স্নেহ করতেন তাঁকে উদ্দেশ্য করেই এবং তাঁেক উপলক্ষ করেই নানা উপমা ,নানা ঘটনার প্রমাণ দেখিয়ে দেশনা করতেন । যেমন কোন নাটক-নাটিকা

 -৭-

বা  চিত্রজগতের ফিল্মে নায়ক নায়িকা থাকে তেমনি শ্রদ্ধেয় ভান্তের দেশনাতেও সেধরনের এক বা একাধিক দায়ক-দায়িকাকে কেন্দ্র করে দেশনাগুলোর সূত্র পাত করতেন । দেশনা কালে কোন দায়ক দায়িকা অমনযোগী হলে বা ঘুম ঘুম ভাবের হলে শুরু করতেন রসিকতার সুরে দেশনা পর্ব । উপস্থিত দায়ক-দায়িকারা হাসতে হাসতে দম বন্ধ করার উপক্রম হতো। যখন দায়ক দায়িকাদের মনযোগ আবারো এক জায়গায় অবস্থান করতো শ্রদ্ধেয় ভান্তে শুরু করতেন আরো দেশনাপর্বের । তাঁর সাধনালদ্ধ জ্ঞানের উপর ভর করেই তিনি ধর্ম্মদেশনা করতেন তিনি বলতেন মদ খেলে পয়সা লাগে,কিন্তু  মদ খেলে অধিক কষ্ট বাড়ে,জুয়া খেললে পয়সা লাগে,কিন্তু জুয়া খেলায় পরিবারের সব সুখ শান্তি বিনষ্ট হয়  কোন পণ্য খুবই সস্তা দামের হলেও তার জন্য মূল্য পরিশোধ করতে হয়,অথচ নির্বান পরম সুখ কিন্তু নির্বান লাভের জন্য একটি পয়সাও মূল্য পরিশোধ করতে হয়না   তোমরা সে নির্বান সাধনাই করো । তোমরা যতো পারো পূণ্য সঞ্চয় করো, ¯^M©evmx হও তাড়াতাড়ি মৃত্যুবরণ করো । তোমাদের সামনে ঘোর অন্ধকার দিন ঘনিয়ে আসছে । তোমরা কিছুই দেখতে পাওনা,আমিই দেখি  । দেশটি তোমাদের জন্য প্রতিরুপ নয়,সে জন্য তোমাদের ধর্ম্মচর্চা অব্যাহত রাখাও অনেক কঠিন হবে । তিনি বলতেন ,যে দেশে আজ্ঞাচক্র নেই,সে দেশে ধর্ম্মচক্র প্রতিষ্ঠিত হতে পারেনা । এ মূহূর্তে তোমাদের দরকার ধর্ম্মচক্ষু,ধর্মজ্ঞান,এগুলো রপ্ত করতে পারলেই চারি আর্যসত্য,প্রত্যুত্‌সমুদ্‌পাতনীতি জ্ঞান অর্জন করতে পারবে ,সেগুলো অবগত হলেই

তোমাদের নির্বাণ সুখ লাভ হবে ।তিনি উপদেশ দিতেন তোমরা শীলবান হয়ে শীলব্রত পালন করেই ¯^M©evmx হয়ে যাও,যা অপর জনমে তোমাদের পারমী পূরণে সহায়ক হবে । তিনি বলতেন- তোমরা আজো কাম চিত্ত,মোহ চিত্ত,লোভ চিত্ত,হিংসা চিত্ত,ক্রোধ চিত্ত নিয়ে মশগুল রয়েছো এজন্য তোমাদের দুঃখ দুর্দশা অধিক । যারা এসব চিত্ত মনে ধারন করে তারা কখনো কুশল কর্ম সম্পন্ন করতে পারেনা । বৌদ্ধরা কখনো এমন ধরনের কাজে লিপ্ত থাকেনা ,তোমরা বৌদ্ধ পরিচয় দিচ্ছো অথচ তোমরা অবৌদ্ধের কার্য সম্পাদন করছো । যেদিন তোমাদের মনে  মৈত্রী চিত্ত,করুণা চিত্ত,কুশল চিত্ত উৎপন্ন হবে ,যে দিন তোমাদের ধর্ম্মচক্ষু,ধর্ম্মজ্ঞান উদয় হবে সেদিনই তোমরা নিজেদেরকে বৌদ্ধরুপে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে । শ্রদ্ধেয় ভান্তে শ্রদ্ধেয় বোধিাপাল ভান্তেকে অত্যন্ত স্নেহ করতেন আরো স্নেহ করতেন মহাজন পাড়ার এক শ্রদ্ধাবান দায়ক ধুপ্রুমহাজন ( প্রয়াত শশী কান্তি চাকমা-ছায়ারাণী বাপ) কে  এবং তারা পারিবারিক ভাবে সকলেই শ্রদ্ধেয় ভান্তের অতি নিকট জন হিসেবে ভান্তে প্রতিটি কথায় হয় শ্রদ্ধেয় বোধিপাল ভান্তে কে নতুবা ধুপ্রু মহাজনকে উপলক্ষ করে দেশনা করতেন। বিশেষ করে রসিকতা করার সময় বেশী বেশী করে বলতেন এই এই ধুপ্রুকে এখনো মেয়ে বাঘে আক্রমন করবে,ধুপ্রু এখনো নদীর পাড়ে পাড়ে বেড়াচ্ছে ,কখন কুমীর এসে লেজের থাবায় নিযে যায় মোটেও টের পাবেনা,ধুপ্রু এখনো বিপদ মুক্ত নও,তোমার চলছে এখনো মহা বিপদ সংকেত । আবহাওয়া অফিস সংকেত দিচ্ছে দশ b¤^i মহা বিপদ সংকেত ।তিনি বলতেন বোধিপালকে বিশ্বাস নেই,যেকোন সময় সেও আক্রমনের শিকার হতে পারে,জবাবে শদ্ধেয় বোধিপাল ভান্তে বলতেন হ্যাঁ ভান্তে ঠিক ঠিক। এসব বলা পর সমগ্র বিহার আঙিনায় হাসির হট্টগোল পড়ে যেতো। তখন দায়ক দায়িকাদের দেশনা শোনার আগ্রহ আরো অধিক বেড়ে যেতো । আরেকজন শ্রদ্ধাবান উপাসক আমাদের সবার পরম শ্রদ্ধেয় মুরুব্বী বাবু খুলারাম চাক্‌মাকেও এভাবে উপমা দিয়ে বলতেন । তিনি বলতেন ভারতীবাপে(খুলারাম বাবু) এ বয়সেও মাথা থেকে তার বোঝাটি নামাতে পারছেনা,তাকে নামাতে বললেও নামায়না । ফাল্গুন- চৈত্রমাসের প্রখর তপ্ত রোদ্রে দেড়মণ ওজনের বোঝা মাথায় নিয়ে নাকি এক পা পেছনে আর এক পা সামনে এদিকে ওদিকে হেলিয়ে পড়বে অবস্থায় বিরাট একটি পাহাড় চুঁড়ায় তিনি উঠছেন,সারা শরীরের ঘাম আর চোখের জল একাকার হয়ে আছেন ,আর শ্রদ্ধেয় ভান্তে ছায়া শীতল প্রকান্ড এক বট বৃক্ষমূলে বসে হিমেল ঠান্ডা বাতাসে পরম সুখে ভারতী বাপকে তার পাশে বসার আহ্বান জানাচ্ছেন,কিন্তু ভারতীবাপে নাকি সে ছায়াতলে বসেন না আর শ্রদ্ধেয় ভান্তের ডাকে সাড়া দেননা। কথাগুলোর তাত্ত্বিকতা আছে কিন্তু,এবং বুঝাও কোন কঠিন নয়,যে কেউ সহজেই তার অর্থ বুঝতে পারেন। তিনি বলতেন আমি ফেরীওয়ালার মতো নির্বানের বোঝাটি মাথায় নিয়ে তোমাদের ঘরে ঘরে ফেরী করে বেড়াচ্ছি আর তোমাদেরকে চিৎকার করে ডেকে ডেকে বলছি,কেউ নির্বান কিনবেন,কারো নির্বান লাগবে  ?কোন মূল্যের প্রয়োজন নেই,একবোরেই ফ্রি,একেবারেই মাঙনা কিন্তু দূর্ভাগ্যের বিষয় আজ পর্যন্ত নাকি একজনেও ওনার নির্বানের মাল কেনেননি ,একজন,ক্রেতাও নাকি এখনো জুটাটে পারেননি এভাবে বলে বলে সমবেত উপাসক উপাসিকাদের সহ সোরগোলে মাতিয়ে তুলতেন । এর পর আবারো শুরু করতেন দেশনা দেয়া । তিনি বলতেন আমি বখন খাগড়াছড়ি আসি তখন দেখি সবাই ভাল ভাল জামা কাপড় পড়ে,আর যখন খাগড়াছড়ি ছাড়ি তখন দেখি সবাই আবারো ন্যাঙঠ্যা হয়ে যায়,একটুও লজ্ঝা পায়না । তোমাদের দেখলে আমার বড়োই লজ্ঝা হয়,তোমাদের দিকে আমি তাকাতে পারিনা । ছোট বাচ্চাদের উপমা দিয়ে বলতেন,বাচ্চারা সাধারনতঃ উলঙ্গ থাকতে ¯^v”Q›`¨ বোধ করে,বিশেষ বিশেষ দিনে এবং অন্য কোথাও গেলে তাদেরকে নতুন নতুন জামা কাপড় পড়িয়ে দেয়া হয় । কিন্তু বাচ্চারা সে নতুন জামা কাপড় বেশীক্ষন গায়ে রাখতে পারেনা,কিছুক্ষনের মধ্যে খুলে আবারো ন্যাঙঠ্যা হয়ে যায় । তোমরাও সে সব বাচ্চাদের মতো,বনভান্তে যখন

-৮-

আসে এবং যতক্ষন থাকে ততক্ষন তোমরা জামা কাপড় পড়ো আর বনভান্তে চলে যাবার সাথে সাথে তোমরাও ন্যাঙঠ্যা হয়ে যাও । তিনি সবাইকে অঙ্গীকার করাতেন সবাই বলো আমারা আর কখনো ন্যাঙঠ্যা হবোনা,জামা কাপড় ছাড়বোনা ,আমরা সবসময় নিত্য নতুন জামা কাপড় পড়বো । মাঝে মাঝে ভান্তে টেলিভিশন,ভিসিপি আনাতেন আর  আফ্রিকান জঙ্গলের জীব জন্তু জা

নোয়ারদের ডকুমেন্টরী দেখাতেন ।বিশাল মাঠে এক সাথে চরতে থাকা জিরাপ,হরিন,বানর বা অন্যান্য জীবদের হিংস্র বাঘ,সিংহরা প্রবল শক্তি নিয়ে হরিন,জিরাপ,জেব্রা বা অন্যান্য জীবদের গায়ে সদলবলে ঝাপিয়ে পড়তো আর বেচারা নীরিহ জীবদের করার কিছুই থাকেনা,ফ্যালফ্যালিয়ে করুণ চাহনীতে সগোত্রীয় জীবের মাংস ভক্ষনরত জানোয়ারদের হিংস্র উল্লাস দেখতো  । অথবা তৃষ্ণা কাতর জীবরা  নদীতে যখন পানি পান করতে যায় ,তখন কুমীরের লেজের থাবায় ধরাশায়ী  হয়,তাদের ভয়াল করাত তুল্য দাঁতের প্যাঁচানীতে ছটফট করতে করতে জীবন প্রদীপ শিখা নিভে যাবার দৃশ্যগুলো ভান্তে নিজে দেখতেন আর আমাদের বলতেন দেখ দেখ এ হিংস্র জানোয়ারেরা নীরিহ হরিন,বানর বা অন্যান্যদের মাংস খাচ্ছে,সে সব জীবদের কষ্ট হচ্ছে ,প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাচ্ছে আর একদল জানোয়ার মহা উল্লাসে তাদের মাংস ভক্ষণ করে উদর পূর্তি করছে । যাদের জীবন যাচ্ছে তাদের কষ্ট হচ্ছে তাইনা ?আমরা হ্যাঁ ভান্তে বলাতেই তিনি বলতেন এই যে জীবের কষ্ট হচ্ছে জানোয়ারেরা তারই কষ্ট খেয়ে দিচ্ছে,তাকেই সব দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্তি দিচ্ছে । এজীবটির পারমী থাকলে সেও নির্বাণ প্রাপ্ত হবে । তিনি বলতেন তোমরা এসব হিংস্র জীবদের ভয় পেয়োনা,এরা তোমাদের মাংস খাবে ,তোমাদের কষ্ট খেতে পারবে কিন্তু তোমাদের জ্ঞান,পূণ্য খেতে পারবেনা ।মনে আছে,একদিন শ্রদ্ধেয় ভান্তে একবার একটি বাংলা ফিল্ম আমাদের দেখান,যে ফিল্মের নায়কটি নায়িকার বিরহে আহার,নিদ্রা,ধন দৌলত,সুখ ভোগ বিলাস ত্যাগ করে হন্যে হয়ে পাগল বেশে এদিক ওদিক ছুটছে আর নায়িকাটি অন্য  একজনের সাথে ঘর সংসার করছে,তখন ভান্তে বলতেন দেখোনা লোকটির অবস্থা ,কি মজা তাইনা ?   ভান্তে বলতেন এই যে,হিংস্র বাঘ সিংহরা তো জীবগনের কষ্ট খেয়ে দিলো আর এ মেয়েটি ছেলেটির খেয়ে দিলো জ্ঞান আর পূণ্য । তখন বলতেন ধৃুপ্রু এখন বলো তোমাকে বাঘ,সিংহরা খেয়ে ফেললে ভাল হবে না মেয়ে বাঘে খেয়ে ফেললে  করলে ভাল হবে । তখন সবাই mg¯^‡i বলতেন না ভান্তে বাঘ সিংহরা খেলে ভাল হবে ,মেয়ে বাঘে খেলে ভাল হবেনা ।শদ্ধেয় ভান্তের উপদেশবাণীগুলোর গভীরতা যে কতো তা সাধারনের নির্ণয় করার নয় । তিনি বলতেন মানুষের পরিচয় পাওয়া যায় চার প্রকারের কাজ কথায় ;প্রথমটি মুখে বলে,কাজে করেনা ,দ্বিতীয়টি মুখেও বলেনা কাজেও করেনা ,তৃতীয়টি মুখে বলেনা কাজে করে ,চতুর্থটি মুখেও বলে কাজেও করে। তিনি বলতেন কতিপয় সত্তা মানবের জন্যখুবই ভয়ঙ্কর,সেগুলো;যেমন;দন্ডধারী,অস্ত্রধারী,ফণাধারী,নখধারী আর বিষধারী তিনি এদের কাছ থেকে সর্বদা নিজেদের দূরে থাকার পরামর্শ দিতেন। সে সময় থেকে আমি শ্রদ্ধেয় ভান্তের দেশনাগুলো গবেষণা শুরু করলাম,দেশনা গুলো অত্যন্ত গভীর জ্ঞানের একেকটি অধ্যায় থেকে প্রচারিত হচ্ছে আমার দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস

জন্মেছে,  দেশনাগুলো সবগুলোই অতি মূল্যবান মূল্যবান হিতোপোদেশ এবং আমাদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তাঁর দেশনার সারমর্ম করলে এই হয়,আমরা সবাই যেন সৎপথে চলি,আমরা সবাই যেন সাধু হই,আমাদের আচার আচরন যেন সুন্দর মার্জিত এবং মানবিকতাপূর্ন হয়। আমাদের মধ্যে একতা,সৌহাদ্যপূর্ণ মনোভাব যেন সর্বদা জাগ্রত থাকে,একে অপরের দুঃখে দুখী আর সুখে সুখী মানসিকতা ধারন করেই চলতে উপদেশ দিতেন সেদিনও আমাদের মধ্যে ভ্রাতৃঘাতী কলহ আর রক্তঝরা দেখে খুব খুব দুঃখ করেছেন তিনি সেদিন বলেছেন;তোমাদের শত্রু অন্য কেউ নয়,তোমরাই তোমাদের নিজেদের শত্রু,তোমরাই নিজেদেরই অপরজন তোমাদের কোন জ্ঞান নেই,তোমরা সবাই নির্বোধ,ইতর প্রানীর মতো তোমাদের মধ্যে বিভ্রান্তি বেশী ,কথার গুরুত্ব না বুঝে,সেগুলো পরীক্ষা নীরিক্ষা না করে শোনা কথায় তোমরা অনেক কিছু বিশ্বাস করো ওমুক বলেছে আর তোমরা ঠিক ঠিক বলে সায় দাও বনভান্তে বলেছে আর তোমরা বলো সঠিক আসলে সেটিতো বুদ্ধ ধর্ম্ম নয় তোমাদের  জ্ঞানচক্ষু দ্বারা দেখে শুনে যা সত্য দেখবে,সত্য বুঝবে তাইতো অনুসরন ,অনুকরন করবে,আর সেটিই তো প্রকৃত ধর্ম বৌদ্ধ ধর্মে কোন যাদুকরী নেই,কোন ভেলকীবাজী নেই বৌদ্ধ ধর্মে আছে জ্ঞানের বাস্তব সত্য,পরীক্ষিত সত্য,কর্মের সত্য ,শীল,সমাধি আর প্রজ্ঞার সত্য ,আছে নির্বান সত্য  আরো অনেক অনেক কথা বলেছেন যে কথাগুলোর গুরুত্ব অনুধাবন করা আমাদের সবার অত্যন্ত জরুরী তবে,সে সব কথাগুলো আজ এখানে নাই বা লেখা হলো । আমাদের তিনি বলতেন আমার জন্য তোমাদের কোন ভাবনা চিন্তা করার দরকার নেই,আমাকে তোমরা সোয়েঙ দিওনা,থাকার জায়গা করে দেয়ার দরকার নেই । তোমরা কেবল তোমাদেরকেই ঠিক করো । আমার সামনে সাধু,ধার্মিক বনে যাবার দরকার নেই তোমাদের মন মন্দিরই আসল মন্দির,তোমাদের গুরুজন ,মাতা-পিতা,শশুর শাশুরীরাই তোমাদের পরম পূজ্য তাদের অবহেলা করে আমাকে শ্রদ্ধা করে কোন লাভ নেই লোক দেখানো ধর্মের কোন মূল্য নেই   এখনো তোমরা রয়েছো নির্বান সমুদ্র হতে লক্ষ লক্ষ মাইল দূরে আমার জীবনে ঘুমকে জয় করতে গিয়ে গীস্মের প্রখর রৌদ্রতাপে j¤^v j¤^v কাঁঠাযুক্ত ছনখোলাতে দাঁড়িয়ে থাকতাম,আর বলতাম আয় ঘুম আয়,সুখে ঘুম যাও পৌষ মাঘ মাসের প্রচন্ড শীতের রাতে বুক-গলা পর্যন্ত পানিতে

  -৯-

দাঁড়িয়ে বলতাম যাও ঘুম খুব সুখে ঘুম যাও। এভাবেই আমি মারকে জয় করেছি আমি তোমাদের বলছি তোমরাও আসো ,মারকে তোমরাও জয় করতে পারবে আমি এখন নির্বান পুকুরে স্নান করছি,

আমি তোমাদের সবাইকে বলছি এসো একবার স্নান করো,তোমাদের গা ধুয়ে নাও,তোমরা কেউ পুকুরের পাড়ে হাটা চলা করছো,কেউ পুকুর থেকে অনেক দূরে,কেউ হাত ধুতে চাচ্ছে তবু ধুচ্ছেনা আবার কেউ পুকুরটি দেখেনি,কেউ কেউ পুকুরের নামটি পর্যন্ত শোনেনি ।এই হলো আমাদের বৌদ্ধ ধর্মের অবস্থা । এ কথা বলার পর তিনি এক পর্যায়ে হতাশ বোধ করতেন আর বলতেন তোমাদের বোঝানো যাবেনা,তোমরা আমার কথাগুলো বুঝবেনা,আমার যা করার করেছি,আমি যা পাবার পেয়েছি ,আমারটা আমারই হয়েছে ব্যস । আমার কোন চিন্তা নেই,দুঃখ নেই,আমার চিন্তা শুধু তোমাদের জন্যই । ¯^qs বুদ্ধ তাঁর শাক্যকুলকে রক্ষা করতে পারেননি ,কর্মের বিপাকের কারণে তাদের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি বরণ করতে হয়েছে ।তিনি বলতেন তথাগত বুদ্ধের সময় বজ্জীয়গণ যতদিন সপ্ত অপরিহানীয় ধর্ম্ম পালন করেছে ততদিন তাদের কেউ কোন প্রকারের ক্ষতি করতে পারেনি,কিন্তু তারা যেদিন সে সপ্ত অপরিহানীয়ধর্ম্ম পালন কার্য্য হতে চ্যুত হলো তখনই তাদের পরাজয় ,ধ্বংস সুনিশ্চিত করেছে। তিনি সামাজিক ঐক্য,শৃঙ্খলাকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। তিনি বলতেন তোমাদের ঐক্য,শৃঙ্খলা আর নেতৃত্বের খুবই অভাব। তোমরা কোন মুরুব্বী মানোনা ,তোমাদের এখন কোন মুরুব্বী নেই,যা আছি একমাত্র আমিই তোমাদের মুরুব্বী,আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা সবাই মুরুব্বীহারা হয়ে পড়বে। আগামীতে তোমাদের সুদৃষ্টি দেয়ার কেউ থাকবেনা তিনি উদাহরন দিয়ে বলেছেন কৃষকরা চাষাবাদ করে কেউ ভাল এবং বেশী ফসল পায়,কেউ মোটামুটি আর কেউবা চাষের খরচ ও যোগাড় করতে পারেনা । তিনি বলতেন এটা কেন হয় ?এটার কারণ,চাষে ভাল ফল পেতে হলে

দরকার উপযুক্ত কৃষক,উপযুক্ত বীজ আর উর্বর ক্ষেত্র,এ তিনের সম্মিলন হলেই প্রচুর ফসল কৃষকেরা লাভ করতে পারে । বীজ ভাল,ক্ষেত্র উর্বর কিন্তু কৃষক ভাল নয়,বা কৃষক ভাল,বীজ ভাল জমি উর্বর নয় সেখানেও ভাল ফলন মোটেও আশা করা যায়না ।তিনি বলতেন বর্তমানে ক্ষেত্র বেশ উর্বর বীজও খুব উপযুক্ত কিন্তু কৃষক ভাল নয় । তোমরা সবাই কৃষক,চাষের উপর নির্ভরশীল তোমরা কিন্তু চাষাবাদে মোটেও মনযোগী নও । এখন থেকে তোমরা উপযুক্ত কৃষক হয়ে যাও ।

            সম্ভবতঃ ১৯৮৮ সাল । শ্রীমৎ সুমনালঙ্কার মহাথেরো তাঁর পরিচালিত পার্বত্য বৌদ্ধ মিশন বিহারে  ঘটা করে কঠিন চীব দান অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন । সে অনুষ্ঠানে পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তেকে ফাঙ করে আনলেন শ্রদ্ধেয় সুমনা লঙ্কার ভান্তে । তিনি শ্রদ্ধেয় বনভান্তের থাকা খাওয়ার আলাদা করে সুন্দর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন । বর্তমান বিহারে পূর্ব কোণের সেগুন বাগানের মধ্যে ছিমছাম একটি কুঠির তুলে দিয়ে ভান্তেকে সেখানে রাখেন । সদ্ধর্ম্মপ্রাণ দায়ক-দায়িকারা সেখানে শ্রদ্ধেয় বনভান্তের সাথে দেখা করতেন। সেদিনের কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠানটি ছিল ঐতিহাসিক । লোকে লোকারণ্য,যেদিকে তাকাই মানুষে মানুষে ঠাসা । সে অনুষ্ঠানের মধ্যমণি ছিলেন আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় ভান্তে । শ্রদ্ধেয় ভান্তে সমীপে একটি শ্রদ্ধাজ্ঞলী লেখা হলো । সৌভাগ্যক্রমে সেটি পাঠের গুরু দায়িত্বটি পড়লো আমার ঘাড়ে । তখন সেটি পাঠ করতে হবে কিছুক্ষন সময়ের মধ্যে ,এর আগে আমি এক নজর চোখ বুলানোর

সুযোগও তখন পাইনি। এছাড়া আগে প্রকাশ্যে এত লোকের উপস্থিতিতে আমি কখনো দাঁড়াইনি আর আমাকে কিনা  শ্রদ্ধাজ্ঞলী পাঠ করতে হবে,তাও পরম শ্রদ্ধেয় ভান্তের । যথাসময়ে পাঠের আগে মনে মনে ভান্তেকে বন্দনা করলাম আর প্রার্থনা জানালাম যেন আমি সার্থকভাবে পাঠ করি । ভান্তের আশীর্বাদে আমি শ্রদ্ধাজ্ঞলীটি পাঠ করেছি সার্থক হয়েছে কিনা জানিনা ,উপস্থিত উপাসক উপাসিকারাই তা বলতে পারবেন । ঐ অনুষ্ঠানে জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যেমন মহামান্য রাষ্ট্রপতির দুই প্রাক্তন উপদেষ্টা যথাক্রমে প্রয়াত বাবু উপেন্দ্র লাল চাকমা এমপি এবং প্রয়াত বাবু সুবিমল দেওয়ান ,তৎকালীন উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এবং বর্তমান মাননীয় এমপি বাবু যতীন্দ্র লাল ত্রিপুরা ,সাবেক জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বাবু সমীরণ দেওয়ান প্রমুখ সহ জেলা প্রশাসক,পুলিশ সুপার এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন । সে সময়  খাগড়াছড়ি রিজিয়নের তৎকালীন মাননীয় রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার মোঃ ইব্রাহিম তাঁর সামরিক বাহিনীর বিশাল এক বহর নিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন এবং শ্রদ্ধেয়

ভান্তের উদ্দেশ্যে নানবিধ দানীয় সামগ্রী অর্পন করেন । তখন রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ সরকারের একদলীয় ও ‰¯^i শাসন ব্যবস্থা  চলছিল । সেদিন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি বক্তা হিসেবে ব্রিগেডিয়ার

ইব্রাহিম তার বক্তব্যে ভান্তের সমীপে বন্দনার সুরে বলেছেন শ্রদ্ধেয় ভান্তে ,আমরা পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ী বাঙালী সবাই ভাই ভাই হয়ে সুখে বসবাস করতে চাই ,আমাদের মধ্যে সব হিংসা,হানাহানি,মারামারি দূর করতে চাই,আপনার নিকট এই প্রার্থনাটি আমি জানাই   শ্রদ্ধেয় ভান্তে সেদিনের দেশনাতে ব্রিগেডিয়ার ইব্রাহিম সাহেবের বক্তব্যের সূত্র ধরে একটি কথা বলেছেন -। ব্রিগেডিয়ার সাহেব মুখে ভাই ভাই বললে হবেনা ,অহিংসার কথা বললে হবেনা ভাই ভাই ভাবটি আগে আপনার মনে কঠোরভাবে ধারন করুন,হিংসা নামক বৃক্ষটি সমূলে উৎপাঠন করুন,মন থেকে মুছে ফেলুন সব ধরনের ভেদ ,তবেই আপনার ভাই ভাই,ঠাঁই ঠাঁই আর অহিংসা চিরস্থায়ী হবে,দেশের মহা কল্যাণ হবে

  -১০-

          সেদিন অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন এ কথাটি তাদের মনে আছে কিনা আমার জানা নেই কিন্তু আমার লেখায় বাড়তি কোন কথা নেই । পেরাছড়া ধর্ম্মপুর আর্য বনবিহারের সর্বপ্রথম অগ্রযাত্রা হয় শুধুমাত্র একটি কক্ষ নির্মান দ্বারা,সম্ভবত ১৯৯৩ সালের মধ্যভাগে। শ্রদ্ধেয় ভান্তের থাকার জন্য সে সময় জেলা পরিষদের অর্থায়নে তৎকালীন চেয়ারম্যান বাবু সমীরন দেওয়ান একটি পাকা কক্ষ নির্মান ব্যবস্থা করেন । একদিন বিকাল বেলা আমি ,চেয়ারম্যান সমীরণ বাবু এবং পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা জনাব কামাল উদ্দিন সাহেব তিন জনে শ্রদ্ধেয় ভান্তে সমীপে গেলাম । আমাদের ঐ কর্মকর্তা শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে দেখেননি কিন্তু ওনার কথা তিনি শুনেছেন ,তাই ওনাকে ভান্তের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়া এবং ওনাকে ভান্তের উপদেশবানী শোনানোর ব্যবস্থা করা। ঐ কর্মকর্তা ভান্তের মুখোমুখি হতেই নিজের পরিচয় তুলে ধরলেন- নাম উল্লেখ করে বললেন আমি মুসলমান আপনার কথা শুনেছি,কিন্তু আপনাকে ¯^P‡ÿ দেখার সুযোগ হয়নি । ভান্তে ওনার উদ্দেশ্যে শুধুমাত্র একটি উদাহরণ দিলেন- বললেন আপনি গতকাল আম খেলেন,কলা খেলেন,পেঁেপ খেলেন,আর খেলেন ভাত মাছ ও অন্য তরিতরকারী ,সকালে প্রকৃতি কার্য সমাধা করে আসলেন । যখন আপনার প্রাকৃতিক কার্য সম্পন্ন করলেন অর্থাৎ মল ত্যাগের পর আপনার পক্ষে কি চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে কোন্‌টি আমের মল,কোন্‌টি কলা ,পেঁপে বা ভাত তরকারীর ?আর ধরুন এক সাথে চার জন লোক মারা গেছে,তার মধ্যে একজন হিন্দু,একজন বৌদ্ধ,একজন মুসলমান আর একজন খ্রীষ্টান । তাদের কবর দেয়া হলো ,কয়েক বছর পর সেগুলো তুলে কঙ্কালগুলো উঠানো হলো,তখন কি চেনা সম্ভব কোনটি হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রীষ্টান বা মুসলমান ?উত্তরে কামাল সাহেব বললেন ভান্তে না । তাহলে আমি মুসলমান,হিন্দু,বৌদ্ধ,খ্রীষ্টান কেন?আমাদের মধ্যে জাতিভেদ আছে বলেই আমাদের মনে ধারন করছি হিংসাা দ্বেষ,লোভ,মোহ আর সে গুলো থাকার কারণেই আমাদের মধ্যে রয়েছে হানাহানি,মারামারি,জয়-পরাজয়,দখল আর উচ্ছেদের মানসিকতা । আমাদের মধ্যে যতই জাতি,ধর্ম,বর্ণ,গোত্র নিয়ে ভেদ থাকবে ততদিন আমাদের মনের মধ্যে আমিত্বভাব থাকবে,আর আমিত্বভাব থাকলেই সেখানে লোভ,দ্বেষ,হিংসা,মোহ,হানাহানি,মারামারি থাকবে   আমরা যদি জীবনটাকে এভাবে দেখি আমি মানুষ,তারাও মানুষ,আমার আনন্দ,বেদনা,সুখ,দুঃখ আছে আমাকে আঘাত দিলে ব্যথা পাই,প্রিয়জনের বিয়োগে আমাকে মর্মাহত করে,আমার মতো অন্যজনের অবস্থাও তাইই হবে,তাহলে আমি অন্যকে কেন আঘাত করব,অন্যকে কেন হিংসা করব ?একটি মানুষের জীবন কতদিন ?পঞ্চাশ,ষাট,সত্তর,আশি,নব্বই বা একশত বছর ,এর পরে তো তাকে মরতেই হবে মরার আগে সে অত্যন্ত ধনী ছিল,স্ত্রী পুত্র আত্মীয় ¯^Rb সবই আছে,আর সবাই ধনী,কোন কিছুরই অভাব বলতে নেই ,মরার পর সে ব্যক্তি কি তার ধন সম্পদ সাথে নিতে পেরেছে বা তার আত্মীয় ¯^R‡biv তার সাথে যেতে পেরেছে ?কামাল সাহেব উত্তরে না বলতেই শ্রদ্ধেয় ভান্তে বললেন অনর্থক আমরা এই আমার ,এই আমাদের করে নিজেদের কাছে নিজেরাই হেরে যাচ্ছি ,অথচ আমাদের কি করণীয় তা ভাবিনা বুদ্ধ মতে কেউ কারোর আপন পর বলতে নেই নিজের দেহ আপনার নয়,নিজের জন্ম,মৃত্যুও নিজের হাতে নেই তাহলে সেখানে এত কিছুর চিন্তাভাবনা কেন ?ক্ষণিকের সুখের মোহে আমরা ভবঘুরে জীবন চক্রে ঘূর্ণিপাকে ঘুরছি আর ইহ লীলা সাঙ্গ হলেই সব শেষ তাই,ক্ষণস্থায়ী জীবনে সর্বদা কৃশলে রত থেকে ইহ জীবন সমাপ্ত করাই উত্তম মঙ্গল কাজ

            খাগড়াছড়ি ধর্মপুর আর্য বনবিহার প্রতিষ্ঠার পর শ্রদ্ধেয় ভান্তে প্রায় সময় খাগড়াছড়ি শুভাগমন করতেন । ধর্মপুর আর্য বন বিহার থেকে জেলার বিভিন্ন স্থানে যেমন পানছড়ি,মহালছড়ি,দিঘীনালা বা অন্যান্য স্থানের দায়ক দায়িকারা আমন্ত্রন করে নিতেন । তিনি যেখানে যান দল বেঁধে ভিক্ষুসংঘ এবং দায়ক দায়িকারা সফরসঙ্গী হতেন । শ্রদ্ধেয় ভান্তের আগমনে জেলার প্রায়স্থানে শাখা বনবিহারের ভাবনা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হতে শুরু করলো । রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়িতে একে একে বন বিহার ভাবনা কেন্দ্র গড়ে উঠলো । আজ পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত ভাবনাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । শ্রদ্ধেয় ভান্তের শিষ্যত্ব বরণ করেছেন প্রায় চারশতাধিক। সে সাথে শ্রদ্ধাবান দায়ক-দায়িকাদের মন এবং চিন্তা চেতনার যথেষ্ট উন্নতি ঘটেছে । আমি বলবোনা যে সকলে খুবই ধার্মিক ,সাধু হয়েছেন কিন্তু এটা ঠিক যে প্রায়ই ¯^a¤§©cÖvY হয়ে উঠেছেন ,অন্ততঃ গুরুপাপ কর্মের বিরতি অনেকাংশে ঘটেছে । সবাই অকুশল কর্মে জড়িত হওয়ার আগে কম বেশী চিন্তা ভাবনা করেন । দায়ক দায়িকাদের মনে দানের প্রাধান্য অধিক হারে বেড়েছে,সেটি A¯^xKvi করার সুযোগ নেই । এক সময় দায়ক দায়িকাদের দানের যে দৈন্যতা আর দানের প্রতি যে ধরনের সংকীর্ণতা তা প্রায়ই দূরীভূত হয়েছে । সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয়টি হলো দায়ক দায়িকা সবাই শ্রদ্ধেয় ভান্তের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল হয়েছেন আর তার নির্দেশিত পথ অনুসরনে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছেন । এক সময় পার্বত্য এলাকার ধর্মকার্যের ¯^iæc ছিল একরকম,আর শ্রদ্ধেয় ভান্তের আবির্ভাবে সে চিত্র পাল্টে গিয়ে হয়ে গোলো অন্যরকম শ্রদ্ধেয় ভান্তের আবির্ভাবের আগে পার্বত্য এলাকার বৌদ্ধদের মধ্যে প্রচলিত থাকা মিশ্র ধর্মের দ্রুত লোপ পায় মিশ্র ধর্ম বলতে দায়ক দায়িকাগন একদিকে বৌদ্ধ ধর্ম্মের অনুসারী ছিলেন আর একদিকে প্রকৃতির বিভিন্ন শক্তির পূজা অর্চনা করতেন যেমন নবান্নে মা লক্ষীমা পূজা,গাঁয়ে গ্রামে কারো অসুখ হলে দেবতা পূজা,থানমানা পূজা,ভাত পূজা,সাঝন্যা পূজা,ভূত প্রেতের আচর পূজা হতো আর প্রচুর পশুবলি হতো ।কারো কোনো অশুভ কিছু হলে পশু বলি মানস সম্পন্ন হতো। মেয়ের বিয়ের জন্য বর পক্ষকে ৮/৯ মুঠি বড় বড় এক বা একাধিক শুকর পণ হিসেবে ধায্য করা হতো।  নব দম্পতির বিয়ে পড়ানোতে শুকুরের মাথা,মোরগ মুরগীর ঠ্যাঙ,মুরগীর ডিম সেদ্ধ এসব পূজা উপকরন হিসেবে প্রাধান্য পেতো এবং সেগুলোর অনুপস্থিত হলে বিয়ে পড়ানো রীতি সিদ্ধ হতোনা মোরগ মুরগীর ঠ্যাঙের আঙুলের ফাঁক দিয়ে নব দম্পতির ভবিষ্যত কুশল আর অকুশল নির্ধারিত হতো আর কারো মৃত্যু হলে বাড়ী থেকে মৃত কে সৎকারের উদ্দেশ্যে নেয়ার আগে একটি মোরগ বা মুরগীর সাথে মৃতকে জোড়া বেঁধে জীবিতদের সাথে মৃতের  সম্পর্ক ছিন্ন করা হতো আর মৃতের শা্রদ্ধের দিনে সে মোরগ বা মুরগীটিকে তার উদ্দেশ্যে বলি দিয়ে তার জন্য রান্না করে ভাত অন্যান্য খাদ্য ভোজ্য দ্রব্যের সাথে পাতে তুলে দেয়া হতো বক্তব্যের এসব বিষয়গুলো বানোয়াট বা কাল্পনিক কিছুই নেই,এসব   আমার নিজ চোখে দেখা আর  লদ্ধ অভিজ্ঞতারই প্রতিফলন মাত্র ।  আমার বয়োজ্যোষ্ঠ্য,সমবয়সী অথবা সামান্য কমবয়সী যারা আছেন তারা অবশ্যই আমার এ লেখার সাথে একমত পোষন করবেন । শ্রদ্ধেয় ভান্তের আগমনে এবং ভান্তের প্রদর্শিত বুদ্ধের শুদ্ধ পথ অনুসরনে পার্বত্য এলাকা থেকে সে সব অপসংস্কৃতি ধীরে ধীরে লোপ পেতে শুরু করলো । বলতে গেলে সে সব অপসংস্কৃতি এখন লুপ্তপ্রায়। তবে সব সংস্কৃতির নির্মূল হয়নি,শুধুমাত্র এখন  তার ¯^iæc বদলেছে । যেমন এখন মৃতের সাথে জীবিতদের আলাদা হতে মোরগ বা মুরগীর পরিবর্তে একটি একতোড়া ফুল ব্যবহার হচ্ছে । কারো মানস থাকলে তারা সংঘদান,অষ্টপরিখ্‌খার দানের মাধ্যমে মানস কার্য সম্পন্ন করছেন । বৈবাহিক কাজে বৈদ্য ওঝার বদলে শ্রদ্ধেয় ভিক্ষুসংঘকে আমন্ত্রন জানিয়ে মঙ্গল সূত্র শ্রবণের মধ্য দিয়ে সমাধা হচ্ছে । কৃষকদের নবান্ন হলে শ্রদ্ধেয় ভিক্ষু সংঘকে আমন্ত্রন জানিয়ে মঙ্গল সূত্র শ্রবণ দ্বারা অথবা বিহারে সোয়েঙ দান দ্বারা চাষীরা নবান্ন গ্রহনকরেন । এ ভাবেই ধীরে ধীরে প্রকৃতির শক্তি পূজা-অর্চনার অবসান হয়ে বুদ্ধের প্রদর্শিত মাঙ্গলিক কাজের মাধ্যমে গৃহস্থালী সংস্কৃতির প্রতিনিয়ত চর্চা  হচ্ছে । বলতে গেলে এখন যদি পুরোনো রীতিতে কা্‌উকে বিবাহ বা রোগবালাই দূরীকরণের উপায় Aej¤^b করতে বলা হয় কেউ তাতে সায় দেবেনা এখন সেটি সুনিশ্চিত । এ সবই একমাত্র  সম্ভব হয়েছে একমাত্র পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তের বদৌলতে ।

-১১-

            শ্রদ্ধেয় ভান্তে দীর্ঘ কয়েক বছর রাঙ্মাটি,খাগড়াছড়ি,দিঘীনালা,পানছড়ি বা বাঘাইছড়ি গমনাগমন করতে করতে একসময়  চলা ফেরার গতি মন্তর হয়ে উঠ্‌লো । শারিরীক বার্ধক্য জনিত কারনে তাঁর পক্ষে আর যত্র তত্র গমনা গমন সম্ভব নয় । সর্বশেষ ১৯৯৯ সালের পর হতে রাঙ্গামটি হতে আর অন্যত্র যাওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি । ১৯৯৯ সালে খাগড়াছড়ি ধর্মপুর আর্য বনবিহারে এক বর্ষাবাস যাপন শেষে রাঙ্গামাটি রাজবন বিহারের দায়ক দায়িকারা সদলবলে এসে শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে রাঙ্গামাটি নেয়ার পর আর খাগড়াছড়ির দিকে ভান্তের আসা হয়নি ।শ্রদ্ধেয় ভান্তে যেদিন ধর্মপুর আর্য বনবিহার থেকে রাঙ্গামাটি রাজ বনবিহার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন সেদিন খাগড়াছড়ির হাজার হাজার দায়ক দায়িকার সম্মিলন ঘটে আর সবার চোখে মুখে বিরহের আবহ । ছেলে সস্তানেরা পিতা মাতা বা নিকট আত্মীয় ¯^Rb  ছেড়ে দূর জায়গায় কোথাও গেলে বা পরম আত্মীয়ের বিদায়ের ক্ষণে যে শোকাতুর পরিবেশ সৃষ্টি,সেদিনও দেখেছি এক বেদনাঘন মূহুর্ত । কি দায়ক,ভক্ত বা কি শ্রদ্ধেয় ভিক্ষু সংঘ । যারা শ্রদ্ধেয় ভান্তের সঙ্গে যাবেন বা যারা শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে বিদায় জানাবেন সবার মানসিক অবস্থা একই ধরনের । সেদিন আমি দেখেছি শ্রদ্ধেয় ভান্তের চোঘে মুখেও আবেগের ছাপ । যখন তিনি আমাদের ছেড়ে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিচ্ছেন,  দলবদ্ধ দায়ক দায়িকা যেখানে  দেখেছেন গাড়ী থামিয়ে হাত নেড়ে নেড়ে দু-একটি কথা বার বার বলে গেছেন- তোমরা সবাই ভাল থেকো ,অন্যায় করোনা,শীল ভঙ্গ করোনা ,কাউকে কোন ক্ষতি করোনা,হিংসা করোনা,কারোর সাথে অন্যায় ব্যবহার করোনা । তোমরা জ্ঞান নিয়ে,প্রজ্ঞা নিয়ে নিজেদের অক্ষুন্ন রাখবে।তোমরা সবসময় পাপের প্রতি ভয়,লজ্ঝা এবং ঘৃনা প্রদর্শন করবে। সদা হুঁশিয়ার থাকবে,সাবধান থাকবে,তবেই তোমরা বিপদমুক্ত থাকবে ।

 সেদিনের শ্রদ্ধেয় ভান্তের বলা কথাগুলো যেন দায়িত্বশীল বাবা আপন সন্তানদের হিতোপদেশ দিয়ে যাচ্ছেন । সম্মিলিত দায়ক দায়িকারা রাস্তার দুধারে সারিবদ্ধ হয়ে প্রণমিত হয়ে ,ফুলের পাঁপড়ি ছিটিয়ে শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে বিদায় দিয়েছেন । কিন্তু তখনো কারোর ধারনা ছিলনা এ যাওয়াটা শ্রদ্ধেয় ভান্তের খাগড়াছড়ি বাসীর জন্য শেষ যাওয়া । যেদিন তিনি চলে গেলেন সেদিন হতে ধর্ম্মপুর আর্যবন বিহারটিকে শুধু ফাঁকা,শুন্য বলে আমার মনে হলো । শ্রদ্ধেয় ভান্তের পদচারণা আর দেশনা গুলোর প্রতিচ্ছবি বারে বারে স্মৃতির পাতায় ভেসে উঠতো আর ভান্তের শুন্যতাকে খুব খুব করে অনুভব করতাম । মনে মনে ভাবতে লাগলাম এরুপ কল্যাণমিত্রের সাক্ষাৎ কি আমাদের আর কখনো হবে ?পরম শ্রদ্ধেয় ভান্তে আমাদের সমাজে সবার চোখ খুলে দিয়েছেন,পঙ্কিল,কাঁদাযুক্ত পথ খেকে আমাদের মসৃণ পাকা সড়কে তুলে এনেছেন। সবাইকে এখন অত্যন্ত আরামদায়ক হাঁটা চলার সুযোগ করে দিয়েছেন । অজ্ঞানতার ঘোর অমানিশা কাটিয়ে সকালের সূর্য্যালোকের ন্যায় আমাদের জ্ঞান চক্ষু খুলে দিয়েছেন । সত্য মিথ্যা যাচাই এবং ভাল মন্দের নির্ভূল বিবেচনা করার উপায় দেখিয়েছেন। হিংসার পথ পরিহার করে অহিংসার নীতি অনুসরনে সকলকে উদ্বুদ্ধ করেছেন । শ্রদ্ধেয় ভান্তের প্রয়াস কোনটিই ব্যর্থ হয়নি ,সকল চেষ্টাই সফল হয়েছে বলে আমার বিশ্বাস । তিনি বলতেন আমি তোমাদের জন্য কিছুই করতো পারবোনা,আমার চিন্তা চেতনা সফল বাস্তবায়ন হবে তোমাদের আগামী প্রজন্মে। তোমাদের ছেলে-মেয়ে  বা তাদের পরে তোমাদের নাতি নাতনীরাই প্রকৃতপক্ষে আমার কথাগুলো বুঝতে সক্ষম হবে । তারাই আমার প্রদর্শিত নীতিতে চলবে এবং সে পথে হাঁটা চলা করবে । প্রকৃতির অমোঘ নিয়মের হেরফের করার মতো শক্তি কারোর নেই । তাই,শ্রদ্ধেয় ভান্তের শারিরীক শক্তি সামর্থ্যও আস্তে আস্তে প্রকৃতির নিয়মে স্তিমিত হতে শুরু হলো । চোখের দৃষ্টি কমে যাওয়া,কানের শ্রবণ শক্তি লোপ পাওয়া,ওঠা বসার শক্তি না থাকা সবই ক্রমাগত নিস্ক্রিয়তার দিকে এগুতে শুরু করলো । আমার মনে প্রচন্ড ভয় ও শঙ্কা জমতে শুরু হলো । আমি শ্রদ্ধেয় ভান্তে আছেন তার জন্য আশ্বস্ত হতাম কিন্তু কোন সময়ও নিশ্চিত হতে পারতামনা ।

-১২-

মনে মনে ভাবতাম ভান্তের বিশাল বৃক্ষ ছায়াতলে আমরা সবাই এক কাতারে রয়েছি । কিন্ত যে হারে বৃক্ষ পাতাগুলো ঝরছে তাতে সুশীতল ছায়াটুকু আর কতোদিন টিকে থাকবে সেটুুকুই আমাকে খুব করে শঙ্কিত করে রাখতো। সৌভাগ্যবশতঃ আমার একাধিকবার ভারত,নেপাল ভ্রমনের এবং সে সাথে তথাগত বুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত স্থান সমূহ দর্শনের সুযোগ হয়েছে। বৌদ্ধরাষ্ট্র থাইল্যান্ড এবং ভিয়েতনাামের কিছু কিছু এলাকা এবং মুসলিম রাষ্ট্র মালয়েশিয়ার কিছু অংশও দেখার সুযোগ হয়েছে।আমার সব দেখে ধর্ম্মাচরণ সর্ম্পকে কিছু মূল্যায়ন করার মত সাহস সঞ্চিত হয়েছে। তাতে পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তে দেশিত,প্রদর্শিত বুদ্ধ নীতি-পথ অনুকরন অনুসরনের প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত খাঁটি এবং যথার্থ বলে আমার মনে বিশ্বাস স্থাপিত হয়েছে। এজন্য পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তের অবদান আমাদের সমগ্র বৌদ্ধ জগতে খুবই অতুলনীয়    মাঝে মাঝে বিভিন্ন খবরাখবর আমার দুর্বল মনকে আরো দুর্বল করে তুলতো । আমার পরিচিত ও হিতাকাঙ্খী দায়ক বৃন্দ,শ্রদ্ধেয় ভিক্ষু সঙ্ঘের সাথে যোগাযোগ করে বিশেষ করে পরম শ্রদ্ধেয় বিমলানন্দ ভান্তের সাথে যোগাযোগ করে শ্রদ্ধেয় ভান্তের শারিরীক কুশলাদি জেনে নিতাম আর কেবল মনে মনে প্রার্থনা করতাম শ্রদ্ধেয় ভান্তে যেন সর্বদা সুস্থ থাকেন এবং  সুদীর্ঘকাল যাবৎ আমরা ওনার সবুজ ছায়াতলে আমাদের নিজেদের স্থান সযত্নে ধারন  করে রাখতে পারি। এমন ভয় ও আতঙ্কে থাকা অবস্থায় শ্বাসরুদ্ধকর সংবাদ হঠাৎ বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়লো । আমাদের সবার পরম আরাধ্য শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে  ২৮ জানুয়ারী,২০১২ তারিখে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে,তাঁর শারিরীক অবস্থার দূ্রত অবনতি ঘটছে ।  সবার চোঘে মুখে ভয় আর আতঙ্কের ছাপ । পথে প্রান্তরে শুধু একটি বিষয়েই আলাপ আলোচনা চলছে । সবাই যেন প্রলয়ঙ্করী একটি ঘুর্নিঝড়ের আভাষ পেয়ে দিকবিদিক ঠাঁই খোঁজার মরণ পণ চেষ্টা করছে । সবাই  হতবাক দৃষ্টিতে ঢাকার খবরের প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন ,কখন কি খবর আসে । প্রতিটি মূহূর্ত আতঙ্কের,প্রতিটি ক্ষণ ভয়ানক । নানা সময়ে নানা খবর আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ,সে সব খবরগুলোর ঘটনা থেকে রটনা অধিক । কিন্তু দূর্ভাগ্য আমাদের খবরের রটনা আর রটনার মধ্যে থাকেনি । সময় ও স্রোতের আবর্তে প্রকৃতি তার অবধারিত নিয়মটি পালনার্থে আমাদের পরম আরাধ্যের মহা-পরিনির্বাণেরক্ষণটি স্থির করে দিয়েছে । আমাদের পরম পূজ্য শ্রদ্ধেয় বনভান্তে ৩০ জানুয়ারী,২০১২ খ্রিঃ তারিখের বিকাল ৩.৫০ ঘটিকায় জাগতিক সকল দায়িত্ব মুক্ত হয়ে পরম সুখ নির্বাণগামী হয়েছেন । আর আমােেদর রেখে গেছেন একান্ত এতিম করে । আমাদের ভাসিয়ে দিয়ে গেছেন শোক সাগরে ।মূহূর্তের মধ্যে বিদ্যুৎবেগে এ দুঃসংবাদটি ছড়িয়ে পড়লো সারা বিশ্বময় ,রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সব চ্যানেলগুলোতো সমপ্রসারিত হচ্ছে শ্রদ্ধেয় ভান্তের মহাপরিণির্বানের সংবাদটি । দেশের লাখো লাখো ভক্ত ,অনুরাগী শোকে হতবিহ্বল হয়ে পড়েছে । স্কয়ার হাসপাতাল,তার আশ পাশের সড়কগুলোতে তিল ধারনের জায়গা আর ধরেনা ভক্ত আর শোক সন্তপ্ত অনুরাগীদের ভীড়ে । সবার চোখে মুখে বিষাদের কালো ছায়া । শ্রদ্ধেয় ভান্তের শিষ্যবৃন্দও সবাই শোকে মূহ্যমান । নিজেদের যেখানে সান্তনা দিতে পারছেননা সেখানে ভক্ত,দায়ককুলকে কিসের সান্তনা দেবেন তারা ?সবাই এক নজর দেখার জন্য পাগলপ্রায় । রাঙ্গামাটি,খাগড়াছড়ি এবং বান্দরবানের বাসিন্দা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থানরত ,চাকুরীজীবি,ছাত্র-ছাত্রী,বিভিন্ন শ্রেনীর দায়কগন বিদ্যুৎগতিতে দলে দলে পৌঁছে গেলো স্কয়ার হাসপাতালে এক পলক দেখার এবং শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের আশায় । সেদিন সারা পার্বত্য এলাকায় নেমে এলো শোকের কালো ছায়া । সমগ্র পার্বত্য এলাকা সহ বিভিন্ন বৌদ্ধ রাষ্ট্রে শ্রদ্ধেয় ভান্তে অনুসারীগনের মনে প্রচন্ড শোকের আবহ । আমরা যারা দূরে ছিলাম আমাদের মনেও শোকের তীব্র জ্বালা অনুভব করলাম।

সে অবস্থায় আমাদের সবার মানসিক অবস্থাগুলো ছিল বোবার নীরব কান্নার মতো । পারিনা সইতে,পারিনা কইতে আর পারিনা রইতে। পরদিন ৩১ জানুয়ারী,২০১২ তারিখের সকাল বেলায়  ঢাকার কলাবাগান মাঠে অনুষ্ঠিত হয় বিশাল এক শোক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠান । পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মাননীয় প্রতিমিন্ত্রী বাবু দীপঙ্কর তালকদার,মাননীয় শিল্প মন্ত্রী বাবু দিলীপ বড়ুয়া সহ হাজার হাজার দায়ক,দায়িকা,ভক্ত,অনুরাগী আর অন্যান্য  রাষ্ট্রীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং বিদেশী রাষ্ট্রদূত,কূটনৈতিকবৃন্দ এ শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকেন । অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা থেকে শ্রদ্ধেয় ভান্তের শবদেহ দুপুর ১২.০০ ঘটিকার দিকে রাঙ্গামাটির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসার পথে সারাটি রাস্তা ঢাকা,কুমিল্লা,ফেণী,চট্টগ্রাম এলাকার বিভিন্ন পথ প্রান্তরে  ভক্ত অনুসারীদের শেষ শ্রদ্ধা জ্ঞাপন আর এক পলক দেখে নেয়ার আগ্রহীদের ভীড়ে দীর্ঘ প্রায় ১৪ ঘন্টা পথ

-১৩-

যাত্রা শেষে রাত ২.০০ ঘটিকার দিকে ভান্তেকে বহনকারী গাড়ী এসে রাঙ্গামাটি রাজ বনবিহারে পৌঁছায় । রাঙ্গামাটির আবাল বৃদ্ধ বণিতা বিনিদ্র রাত অপেক্ষায় থাকেন । শ্রদ্ধেয় ভান্তের শবদেহ রাঙ্গামাটি পৌঁছার পর পরই এক হৃদয় বিদারক ঘটনা,লাখো নরনারীর অশ্রুঝরা কান্নায় রাজ বনবিহারের সমস্ত এলাকার আকাশ বাতাস ভারী করে তুলেছে ,এ ধরনের ঐতিহাসিক শোকাবহ পরিবেশের ঘটনা পার্বত্য এলাকায় সেদিনই প্রথম ।শ্রদ্ধেয় ভিক্ষু সঙ্ঘ থেকে শুরু করে  আবাল বৃদ্ধ বণিতার চোখে শুধু অশ্রু ঝরা কান্না আর বুকফাটা বিলাপ । সেদিন সান্তনা দেয়ার মতো পাশে কেউ কারোর জন্য ছিলেননা । সারা রাত দিন লোকে লোকারণ্য রাঙ্গামাটির আনাচে কানাচে। সবার একটি লক্ষ্য,শদ্ধেয় ভান্তেকে এক নজর দেখা আর শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পন । মানুষের ভীড় সামলানো এক দুরুহ ব্যাপার ,কে কার আগে দেখবেন,আর কে কার আগে শ্রদ্ধাঘ্য অর্পণ করবেন সেটি যেন এক অপ্রতিরোধ্য প্রতিযোগীতা । সমগ্র রাজ বনবিহার যেন শোকাতুর অশ্রুসিক্ত ভক্ত দায়ক,দায়িকার জোয়ারে ভেসে যাচ্ছে । সে সাথে সমগ্র রাজ বন বিহার যেন ফুলে ফুলে ছেয়ে গেছে ।  নানা রঙের লাখ লাখ বর্ণিল ফুলের তোড়া আর ফুলের পাঁপড়িতে পুরো এলাকা স্তুপাকার হয়ে উঠেছে । এ যেন এক অবিশ্বাস্য ঘটনা । পার্বত্য জনপদের সব শ্রেনীর মানুষ যেন রাজ বনবিহারে এসে ভীড় করেছে। সবার চোখে মুখে বিষাদের কালো ছায়া । শোকে আচ্ছন্ন প্রতিটি নরনারী,কি ছেলে কিংবা মেয়ে যুব কিংবা বৃদ্ধ সবার হাতে একেকটি ফুলের তোড়া ,আর সে সব ফুল কেবলই সমর্পিত হচ্ছে পরম পূজ্য বনভান্তের কফিনে। মনে হয়েছে গত কয়েকদিন ধরে সারা দেশে যত ফুল উৎপন্ন হয়েছে সব ফুলই রাজ বনবিহারে আনা হয়েছে ।সকাল,দুপুর,সন্ধ্যা আর রাত অবধি শুধু ফুল আর ফুল দিয়ে শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পন করা হচ্ছে । ঢাকা,চট্টগ্রাম এমনকি ভারত থেকে আমদানী করা ফুলও যশোহরের স্থল বন্দর হতে ট্রাক,পিকআপ ভর্তি ফুল নিয়ে আসা হয়েছে । সে সাথে ভক্তকুলের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধার্ঘ জানানোর সুযোগে ফুল ব্যবসায়ীগন হাতিয়ে নিয়েছে কোটি কোটি টাকা ।  

  পরম শ্রদ্ধেয় ভান্তে আর কোনোদিন আমাদের সমুপস্থিত হবেননা । এ মহা দূর্যোগে আমাদের এখনই ঠিক করতে হবে  আমাদের করণীয় কর্তব্য। আমরা শ্রদ্ধেয় ভান্তের শূন্যতায় কি শুধু বিলাপ করেই আমাদের জীবন সাঙ্গ করবো ?না কি তাঁর প্রদর্শিত পথ,নীতি অনুসরন করেই আমরা শ্রদ্ধেয় ভান্তের গমন পথ তাড়াতাড়ি খুঁজে নেবো ?এখানে একটি কথা বলাই বাহুল্য যে,রাষ্ট্র,সমাজ বা ধর্মের শীর্ষস্থানের আসনটি যখন কিছু সময়ের জন্য শুন্যতা বিরাজ করে,তখনই নানা মত,অভিমতের আলোড়ন সৃষ্টি হয় । এমন দূর্যোগের দিনে আমার মনেও কি কারনে যেন একটু ভয় ভয় ভাব জেগেছে। আমার কেবলই মনে হচ্ছে কেউ বা কারা যেন এদিক ওদিকের সূতা কোন এক দৃশ্য অথবা অদৃশ্য অবস্থান থেকে একটু আধটু করে টানাটানি করছেন । পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তের তিলে তিলে গড়া নির্বাণ রথের যোগ্য কান্ডারীর হাল ধরার সহজ কাজটি যেন সহজে করার কাজে অন্তরায় সৃষ্টির নানা উপায় উদ্ভাবনী চলছে ।  তথাগত সম্যক m¤^y× এবং পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তে সমীপে আমার প্রার্থনা ,আমার সন্দেহটি যেন শুধু শুধুই অমূলক হয় এবং সম্পূর্ন অসত্য আর মিথ্যা প্রমানিত হয় । কারণ আমাদের ধর্ম ত্যাগেরই ধর্ম,অলোভ,অমোহ,অদ্বেষরই ধর্ম । ধর্মের কাজে কেউই অধর্ম  আচরণে লিপ্ত হবেননা অন্ততঃ  সে বিশ্বাসটুকু আমি রাখি । আমাদের পার্বত্যবাসীর বৌদ্ধ ধর্মের কোন ভিন্ন gZvej¤^x নেই । কিন্তু তবু কেন যেন নানা মতামত মাঝে মাঝে বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে ,যা অনেক সময় হিতকাঙ্খীদের জন্য দূর্ভাবনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এরুপ পরিস্থিতিতে বিভিন্ন মতবাদীগন অতীতের নানা অকুশল বিষয় সমূহকে সামনে এনে দাঁড় করানোর অপচেষ্টা চালান । পরস্পর পরস্পরের দোষ,ত্রুটিগুলো বেশী করে সামনে আনা হয়,কাঁদাছোঁড়াছুড়ি হয় অধিক । এতে দায়ক-দায়িকা বা উপাসক-উপাসিকাদের মনে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে বিতর্কের ঝড় তুলে দেয়া হয়। সৃষ্টি হয় বিশৃঙ্খল পরিবেশ,অথচ তাতে কারোর কিছুই লাভ হয়না,সর্বক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণই বাড়ে । আমাদের সমাজে বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের কারণে অনেক অনেক ভূলের মাশুল দিতে হয়েছে অতীতে ,দিতে হচ্ছে বর্তমানে কিন্তু সে ভূল আর শোধরানো যায়নি,ক্ষতি যা হবার হয়েই যাচ্ছে আর আমরা সব বুঝেও কিছুই বুঝিনা । এখন অতীত আর বর্তমান থেকে যদি আমরা কোন শিক্ষাই গ্রহন করতে ব্যর্থ হই,ভবিষ্যতেও অগণিত মাশুল গুনতে হবে আমাদের  চরমভাবে । ব্যক্তিগত মান অভিমান বা ইচ্ছা আগ্রহকে পূঁজি করে একটি কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাবার দুরন্ত বাসনা এ মূহূর্তে কাম্য হওয়া উচিৎ নয় । পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তে এবং শ্রদ্ধেয় শীষ্য মন্ডলী তথাগত সম্যক m¤^y‡×iB নীতি,আদর্শ অনুসরনে দায়ক-দায়িকা,উপাসক-উপাসিকাদের উজ্জীবিত করছেন । তাঁরা তথাগত সম্যক m¤^y× এবং শ্রদ্ধেয় বনভান্তেরই বাণী  প্রচার করছেন,তথাগত সম্যক m¤^y× এবং শ্রদ্ধেয় বনভান্তের প্রদর্শিত পথেই চলার উপদেশ দিচ্ছেন। তাঁরা কাউকে বিপথে ঠেলে দিচ্ছেননা বা কোন কুপথ প্রদর্শন করছেননা। শ্রদ্ধেয় বনভান্তের শীষ্য মন্ডলী,উপাসক-উপাসিকা,দায়ক-দায়িকা সকলেই শ্রদ্ধেয় বনভান্তের মত-পথ শতভাগ অনুসরন করছেন এমন দাবী করার সময় আজো উপস্থিত হয়নি। শ্রদ্ধেয় শীষ্য মন্ডলী,উপাসক-উপাসিকা বা দায়ক-দায়িকা সবার কোন কোননা ভূল এবং দোষ ত্রুটি আছে এবং সেটি থাকাটাই ¯^vfvweK| আমরা কেউই ভূল বা দোষের উর্দ্ধে এখনো উঠতে সক্ষম হইনি,সে সবের উর্দ্ধে উঠতে পারা মহাপুরুষদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয়ে থাকে,কিন্তু রক্ত মাংস দ্বারা গড়া মানুষের ক্ষেত্রে নয় । এসব

 -১৪-

ভূল বা দোষ থেকে পরিত্রাণের বাসনা নিয়েই তো আমাদের এ মহাকর্মযজ্ঞ । শ্রদ্ধেয় বনভান্তের ছায়াতল রাজ বনবিহার বা শাখা বনবিহারগুলিই আমাদের একমাত্র মিলন ক্ষেত্র,যে ক্ষেত্রগুলোতে ঠাঁই নিতে পারলে ক্ষণিকের সময়ের জন্য হলেও আমরা মৈত্রীভাব পোষণ করছি,মন থেকে হিংসা,  লোভ,মোহ,বিদ্ধেষভাব  বিদূরিত করার একটি পবিত্র মূহূর্ত লাভ করছি সেটিই আমাদের জীবনের জন্য বড়োই গুরুত্বপূর্ণ। ব্যক্তি বিশেষের প্রতি সবার কিছ ুনা কিছু অপছন্দবোধ ,মন্দ ধারনা বা ক্ষোভ,দুঃখ থাকে এবং সেটি ব্যক্তির মন অন্তরেই লালিত থাকে । কিন্তু ব্যক্তির সে ব্যক্তিগত নেতিবাচক মানসিকতা যখন সামগ্রিক পর্যায়ে প্রতিফলন ঘটে বা ঘটানোর চেষ্টা হয় সেটিই তখন সবার জন্য খুবই দূর্ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। এখন এ মূহূর্তে নীতি অনুসরন বা নীতি ভ্রষ্ঠতা বিষয় নিয়ে উৎকণ্ঠিত হওয়া নয়,নয় বা শূণ্য আসনে উপবেশনের জন্য অসুস্থ প্রতিযোগীতা । অতীতে কার কি দোষ ছিল,কে কি অপকর্ম করেছেন তাই নিয়ে নয়,পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তের কে ছিলেন অতি কাছে আর বা কে ছিলেন বহূ দূরে সেটি নিয়েও নয়,এখন শুধু একটি মূখ্য বিষয় হওয়া উচিৎ এ সংকট কালটিকে অসম্ভব ধৈয্য সহকারে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায়,ধীর পদক্ষেপে যে যার অবস্থান থেকে পবিত্রতম দায়িত্ব গুলো প্রতিপালন করা ।  কারোর দোষ দেখিয়ে,ভূল ধরে দিয়ে যদি সবার মঙ্গল,কল্যাণ হয় তাতে আমার আপত্তি নেই ,কিন্ত অপরের দোষ,ভূল কিংবা ত্রুটি দেখিয়ে দিতে গিয়ে যদি এতদিনের গড়ে ওঠা সামাজিক ও ধমীয় কাঠামো চুরমার হয়ে যায় ,তার দায়- দায়িত্ব বহন করবেন কে ?মনে রাখতে হবে আমাদের ভাগ্যাকাশে ঘোর কালোমেঘের ঘনঘটা প্রতিনিয়তই বাড়ছে ,তাই সম্মুখ প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের আভাষ । এ ঝড় থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রস্তুতি গ্রহনের সময় আমাদের এখনই । তা না হলে প্রচন্ড ঝড়ো হাওয়ায় আমাদের সমস্ত কিছু লন্ডভন্ড হয়ে যেতে পারে ,আমার ভয় কেবলই সেদিকে । শেষে আমি  একটি কথাই উদ্ধৃত্ত করবো ‘‘ভাল মন্দ আমরা যে যাইই হইনা,তবুও আমরা অন্ততঃ অতি পবিত্র মনে নিয়ত পরম পূণ্যক্ষেত্র শ্রদ্ধেয় বনভান্তের রাজবনবিহার বা শাখা বনবিহারগুলিতে সমবেত হই,সবার একটি মাত্র লক্ষ্য,আমাদের মন অন্তরে লালিত পবিত্রতাকে আরো অধিকহারে বিকশিত করা। আমরা যদি নাইবা এগিযে যেতে সক্ষম হলাম তথাপি যেন আর পেছনে নয় কোনক্রমেই। যোগ্যকে তার যোগ্য আসনে বসাবেই সেটি সময়ের ব্যবধান মাত্র।যোগ্যতা এবং প্রতিভা কারোর কখনো লুকায়িত থাকেনা,সময়ের তাগিদে তা একদিন সদর্পেই বিকশিত হয়। আমাদের এখন একটি মাত্র নৈতিক দায়িত্ব ,সবার মঙ্গলার্থে সাম্য,মৈত্রী আর করুণাভাব সবার মনে আরো অধিকহারে জাগ্রত করে তোলা। মনের ভেদ- বিভাজনের সময় এখন নয়,ঐক্যই মূহূর্তে আমাদের অত্যন্ত জরুরী। মূহূর্তে আমাদের দেশনে,লেখনে,ভাষনে সংলাপে অতিমাত্রায় সতর্কতা Aej¤^b দরকারআমি সবাইকে নৈতিক দায়িত্বটুকু যথাযথভাবে প্রতিপালন করার জন্যই সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাবো   এখনই আমাদের সবার মনের জোর বাড়িয়ে পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তের গমন পথই অনুসরন করার উপযুক্ত সময় । আমাদের বিলাপ বা হা হূতাশ করা নয়,নয় দুর্বল,শঙ্কিত চিত্তে বসে থাকা । এতোদিন যে পথটুকু আমাদের হাঁটা হয়নি সে পথটুকু জোর কদমে এগিয়ে যাওয়া । আমাদের এখন একটি মাত্র লক্ষ্য আর উদ্দেশ্য সেটি হলো শ্রদ্ধেয় ভান্তেকে আবারো আমাদের মাঝে খুঁজে পাওয়া । আর তাঁকে খুজে পেতে এটুকুই আমাদের মনে প্রাণে লালন এবং ধারন করতে হবে ,তিনি আমাদের যে জ্ঞান দিয়েছেন,তিনি আমাদের যে শিক্ষা দিয়েছেন সে জ্ঞান,সে শিক্ষার পথ ধরে গেলেই আমরা শ্রদ্ধেয় ভান্তের দেখা পাবো অবশ্যই । শ্রদ্ধেয় ভান্তে প্রদর্শিত একেকটি নীতিই একেকজন বনভান্তে । আমরা তথাগত সম্যক m¤^y‡×i সাক্ষাৎ লাভ করিনি বটে কিন্তু বুদ্ধের অনুসৃত নীতি,কাজের শিক্ষা গ্রহন এবং অনুসরনে পেয়েছি একজন সুদক্ষ শিক্ষা গুরু,দীক্ষা গুরু । তিনিই তথাগতের সকল পথগুলির সাথে আমাদের পরিচিত করিয়ে দিয়েছেন । শ্রদ্ধেয় ভান্তের আরদ্ধ কাজ কোনটিই অসম্পূর্ন রেখে যাননি । সব কাজই সুন্দরভাবে সমাপ্ত করে গেছেন । তিনি আমাদের ,তাঁর যোগ্য উত্তরসূরী শ্রদ্ধেয় শিষ্যমন্ডলীকে যে পথে চলার ,যে কথা বলার,যে কর্ম্মে লিপ্ত থাকার বা যে কর্মে বিরত থাকার নির্দেশনা দান করেছেন সে নির্দেশনা অনুসরন করেই আমরা শ্রদ্ধেয় ভান্তের শূন্যতা পূরণে সক্ষম হবো এবং আমরা একে একে সক্ষম হবো তাঁর অভীষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছতে।

            তাই আসুন সবাই ,আমরা পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তের দেশিত,নির্র্দেশিত পথ ধরেই সামনে এগিয়ে

সব্বে সত্তা সুখীতা হোন্তু,সব্ব দুখ্‌খা পমুচ্ছন্ততি     

                                

সাধু                   সাধু                   সাধু

 

 

বিঃদ্রঃ আমার লেখার শেষের অংশগুলো পরম শ্রদ্ধেয় বনভান্তে এর পরিনির্বাণকালীন সময়ের আগে এবং পরের ঘটনাবলীর তথ্যসমূহ পরম শ্রদ্ধেয় বিমলানন্দ ভান্তে ( বিহারাধ্যক্ষ,মৈত্রীপুর ভাবনা কেন্দ্র,ইটছড়ি,খাগড়াছড়ি ) হতে সংগৃহীত শ্রদ্ধেয় ভান্তে সমীপে আমার অকৃত্রিম বন্দনা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি তারই পাশাপাশি আমার লেখার উদ্দ্‌শ্েয নিয়ে একটি ছোট্ট কথা প্রকাশ না করলে নয়- আমার লেখার উদ্দেশ্য কাউকে ব্যক্তিগত বা সামগ্রিকভাবে অগৌরব বা অসম্মান করা নয় বা কাউকে অধিকতর সম্মান প্রদর্শনের জন্য আমার লেখার উদ্দেশ্য শুধু আমাদের পারস্পরিক ঐক্যের দৃঢ বন্ধন,ক্ষমা,মৈত্রী,অহিংসা আর করুণার দ্বারা বর্তমান ধর্মীয় অবস্থানকে আরো অধিকতর সমুন্নত করার অভিপ্রায় নিয়েই একটি ক্ষুদ্র প্রয়াস মাত্র। তথাপি আমার লেখায় কারো যদি মনোবেদনার কারণ হয়ে থাকলে আমি সশ্রদ্ধচিত্তে ক্ষমা প্রাথনা করছি  

Print Friendly, PDF & Email