log1

পার্বত্য চট্টগ্রামে বুদ্ধধর্ম ও সদ্ধর্মের কান্ডারী আর্যশ্রাবক সর্বজনপূজ্য বনভন্তে

ড. সুধীন কুমার চাকমা

        পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত আদিবাসী জনগোষ্ঠী চাকমা, মারমা, তষ্ণঙ্গা, চাক ও খিয়াংরা বুদ্ধধর্মাবলম্বী। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ভুক্ত এ জাতিসত্ত্বাগুলো বেশ কয়েক শতাব্দী কালব্যাপী এই অঞ্চলে বসবাস করে আসছে। এ ছাড়াও বুদ্ধধর্মাবলম্বী   বড়ূয়া সম্প্রদায় এখানে বসবাস করেন। তবে এ অঞ্চলে তথাগত সম্যকসম্বুদ্ধের আমলে বুদ্ধধর্ম প্রবর্তিত হয়েছিল কি না তা সঠিক করে বলা মুসকিল। ঐতিহাসিকদের মতে খ্রিষ্টীয় ৩য় শতকে সম্রাট অশোকের রাজত্বকালে বঙ্গদেশে বুদ্ধধর্মের প্রবর্তন হয়। পরবর্তীকালে বিভিন্ন রাজবংশ—পুষ্যমিত্র, কনিষ্ক, গুপ্ত ও পাল রাজারা খ্রিষ্টীয় দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত রাজ্য শাসনকালে বুদ্ধধর্মের প্রচলন ছিল।

           বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক ফা হিয়েন খ্রিষ্টীয় ৫ম শতাব্দীতে বঙ্গদেশ পরিভ্রমণ করেন এবং সমৃদ্ধশালী বুদ্ধধর্ম নিয়ে তাঁর ভ্রমণবৃত্তান্তে বর্ণনা দেন। অপর বিখ্যাত চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাং খ্রিষ্টীয় ৭ম শতাব্দীতে সমতট (পূর্ববাংলা) অঞ্চলে ভ্রমণে এসে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অনেকগুলো বিহার বা মঠ দেখতে পান। এ সকল বিহারের বিভিন্ন স্তূপের প্রতœতাত্ত্বিক নিদর্শনের স্থাপত্যশৈলী বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে পরে আবিষ্কৃত হয়। ড. হেইনজ বেচার্ট (Dr. Heinz Bechert) এর মতে মুসলিমরা যখন মগধ দখল করেন, বহু সংখ্যক বৌদ্ধ ভিক্ষু কুকীল্যা-ে (পূর্বভারত ও মায়ানমার) পালিয়ে আসেন। খ্রিষ্টীয় ৩য় শতকে সম্রাট অশোকের আমলে বুদ্ধধর্ম কুকীল্যান্ড পর্যন্ত বিস্তৃতি লাভ করে। সে সময় চাকমারা বুদ্ধধর্ম গ্রহণ করে। (Bechert, 1967)

আড়াই হাজার বছরেরও আগে গৌতমবুদ্ধ যে-ধর্ম প্রচার করেছিলেন তা নানা কারণে কালের পরিক্রমায় অনেক পরিবর্তন লক্ষ করা যায়। ভারতবর্ষে ব্রাহ্মণ্য মতবাদের জাগরণে বিশেষ করে শঙ্করাচার্যের মতো একজন শীর্ষস্থানীয় দার্শনিকের আবির্ভাবে বুদ্ধধর্মের প্রভাব ক্রমশ দুর্বল হতে থাকে। বুদ্ধ পরিনির্বাণ লাভের কয়েক শতাব্দীর মধ্যেই বুদ্ধধর্ম হীনযান ও মহাযান নামে দুভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। হীনযান বা থেরবাদীরা রক্ষণশীল ও প্রাচীনপন্থী। মহাযানীরা অনেকটা উদারপন্থী। মহাযানবাদ ক্রমান্বয়ে ব্রাহ্মণ্যধর্মের মত ও রূপ গ্রহণ করার দিকে অগ্রসর হয় এবং অচিরেই ভারত থেকে হীনযান বৌদ্ধ মতবাদ দূরীভূত হয়। মহাযানী মতবাদ ক্রমশ তন্ত্রযান, বজ্রযান, সহজযান ইত্যাদি নানা যানে বিভক্ত হয়ে পড়ে। জাদুবিদ্যা, পূজা, অর্চনা ও নানা কুসংস্কার দেখা দেয়। অবশেষে ভারত থেকে বুদ্ধধর্ম প্রায় বিলীন হয়ে যায়। পার্বত্য চট্টগ্রামে হিন্দুধর্মের আদলে তান্ত্রিক বুদ্ধধর্মের আবির্ভাব হয়। আঠারো শতকের শেষের দিকে ফ্রান্সিস বুকানন (Franchis Buchanon) নামে এক ইউরোপীয়ান এ অঞ্চল ভ্রমণ করেছিলেন। তিনি চাকমাদের মধ্যে সামোনা ও মোসাং নামে দু-রকম পুরোহিতের নাম উল্লেখ করেছেন। সামোনা পালি সমণ শব্দের অপভ্রংশ চামনি। মোসাংদের বাঙালিরা রাউলী বলত, বড়–য়া সমাজে ভিক্ষুদের রাউলী বলত, আর চাকমারা বলত লুরী। লুরীরা ছিল মহাযানপন্থী তান্ত্রিক বৌদ্ধ পুরোহিত। তারা ধর্মীয় কৃত্যে আগরতারা পুস্তক ব্যবহার করত, যা বিকৃত পালির ত্রিপিটকেরই অংশ বিশেষ।

           পর্তুগীজ ইতিহাসবিদ জো ডে বারোস (Joa De Barros) ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি নাগাদ আঁকা মানচিত্রে ঈযধশড়সধং বা চাকমাদের অবস্থান দেখানো হয়েছে যা বর্তমান পার্বত্য চট্টগ্রামকে নির্দেশ করে। ফ্রান্সিস বুকাননের মতে চন্দ্রঘোনা ইছামতি ও সিলক হয়ে বরকল পর্যন্ত চাকমাদের অবস্থান ছিল। এই সময়ে চাকমাদের ধর্মের বাহ্যিক আবরণে নানারকম তন্ত্র, মত ও পথ। বিবিধ দেবদেবীর পূজা-পার্বণ অনুপ্রবিষ্ট হতে থাকে। বৌদ্ধ সমাজ কলুষপূর্ণ হয়ে বুদ্ধদর্শনের আদর্শ হতে বিচ্যুত হয়ে যায়। গেরুয়া রংবস্ত্রধারী লুরীরা তখন চাকমাদের সকল ধর্মকাজ সম্পাদন করতেন। ১৮৩৭ সালে কালিন্দী রাণী শাসনভার গ্রহণকাল পর্যন্ত ধর্মের নামে চাকমাদের এ ধারা চলতে থাকে। অতঃপর অধঃপতিত বুদ্ধধর্মকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য মহিয়সী রাণী কালিন্দী আরাকানের বিখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সারমেধ মহাস্থবির মহোদয়কে চট্টগ্রামের রাজানগর বিহারে আসার আমন্ত্রণ জানান এবং বুদ্ধধর্মের থেরবাদ নীতিসমূহ পুনঃপ্রবর্তনের আবেদন জানান। রাণী এই মহাস্থবিরকে রাজগুরু পদে বরণ করেন এবং তাঁকে সংঘরাজ উপাধিতে ভূষিত করেন। সংঘরাজ সারমেধ মহাস্থবির মহোদয় তৎকালীন ভিক্ষুদের বিনয়সম্মতভাবে দীক্ষা প্রদানপূর্বক সংঘরাজ নিকায় স্থাপন করেন। তখন থেকেই এ অঞ্চলে থেরবাদ বা হীনযান মতবাদ পুনঃজাগরিত হয়।

           পার্বত্য চট্টগ্রামে বুদ্ধধর্ম প্রচারের ক্ষেত্রে যাঁর অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করতে হয় তিনি হলেন প্রয়াত শ্রদ্ধেয় অগ্রবংশ মহাথের মহোদয়। তিনি সুদীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ মায়ানমারে ত্রিপিটকশাস্ত্র অধ্যয়ন করে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সমাজে প-িত হিসেবে সুখ্যাতি অর্জন করেন। মায়ানমারে অবস্থানকালে ১৯৫৪-৫৬ সালে রেঙ্গুনে অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংগীতি অনুষ্ঠানে তিনি যোগদান করেন। অতঃপর ১৯৫৮ সালে সদ্য প্রয়াত রাজা ত্রিদিব রায়ের আমন্ত্রণে তিনি স্বদেশে ফিরে আসেন এবং রাজগুরু পদে স্থলাভিষিক্ত হন। রাজগুরু হিসেবে অধিষ্ঠিত হয়ে তিনি জাতীয় ধর্মকে শ্রীবৃদ্ধি সাধনে তৎপর হন এবং বুদ্ধপূজা-পার্বণাদি নতুনরূপে প্রবর্তন করেন। তিনি অনেক ধর্মীয় বই-পুস্তক রচনা করে ধর্মীয় সাহিত্যও সমৃদ্ধ করেন। অগ্রবংশ ভন্তে ‘পার্বত্য ভিক্ষুসংঘ’ প্রতিষ্ঠা করেন। বৌদ্ধশাস্ত্রে তাঁর গভীর জ্ঞান ও পা-িত্যের স্বীকৃতিস্বরূপ মায়ানমার সরকার তাঁকে ‘অ¹মহাসদ্ধম্মজ্যোতিকাধ্বজ’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

              বাংলাদেশ অভ্যুদয়ের আগ পর্যন্ত পার্বত্য চট্টগ্রামে বৌদ্ধ বিহারের সংখ্যা ছিল খুবই নগণ্য। সে সময়ে মারমা ভিক্ষুরাই বুদ্ধধর্ম প্রচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ধর্মের এমনি এক যুগসন্ধিক্ষণে ১৯৫৯ সালে দীঘিনালায় বোয়ালখালী দশবল বৌদ্ধ বিহারে চট্টগ্রামবাসী ভিক্ষু জ্ঞানশ্রীর আগমন ঘটে। এই ভিক্ষুর অন্তরে ধর্মকর্মের পাশাপাশি সমাজসেবার প্রতিও উদগ্র বাসনা ছিল। ১৯৬৩ সনে এলাকার অসহায় দরিদ্র ছেলেদের জন্য বিহারে এক অনাথ আশ্রম আরম্ভ করেন। আশ্রমটি পরিচালনার জন্য বিহারে প্রাপ্ত দানীয়সামগ্রী, এলাকাবাসীদের মুষ্ঠিভিক্ষা ও ভিক্ষান্নই ছিল প্রাথমিক সম্বল। এভাবেই তিনি ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম বৌদ্ধ অনাথ আশ্রম’ প্রতিষ্ঠা করে অনেক ছেলের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। এর পাশাপাশি বিহারের পুরনো ঐতিহ্য-অনুযায়ী তিনি একদল শিক্ষার্থী ভিক্ষু-শ্রামণ গড়ে তোলেন। আশ্রমটি একসময় সরকারি স্বীকৃতি লাভ করে।
গত শতকের ষাটের দশক পার্বত্য চট্টগ্রামের ধর্মীয় ইতিহাস নানা কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এই সময় রথীন্দ্র লাল চাকমা নামে মগবানের এক তরুণ যুবক সংসার-জীবন অসার মনে করে ধনপাতার গহীন অরণ্যে সাধনায় নিরত হন। তাঁর এই গভীর সাধনা স্থানীয় জনগণের মনে যুগপৎ ভয়, বিষ্ময় ও শ্রদ্ধা জাগায় এবং লোকের কাছে তিনি ‘বন শ্রামণ’ নামে পরিচিত হলেন। ইনিই পরবর্তীকালে সকলের পূজ্য ‘বনভন্তে’ নামে অভিহিত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে বুদ্ধধর্মকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যায়। ধুতাঙ্গধারী এই মহান সাধকপ্রবর এ দেশের বৌদ্ধ সমাজে এক বিষ্ময়।

           পরমপূজ্য বনভন্তে তথাগত সম্যকসম্বুদ্ধের মহান মৌলিক শিক্ষানীতির কা-ারী হিসেবে সদ্ধর্মের আলোকবর্তিকারূপে আর্বিভূত হয়েছিলেন। তাঁর আবির্ভাবে গোটা পার্বত্য এলাকায় বুদ্ধধর্মের নবজাগরণ সূচিত হয়। তিনি সমগ্র বুদ্ধধর্মাবলম্বীদের জ্ঞানের প্রসারে ও মানব জীবনে ধর্মের চর্চা ও বিকাশে নিরন্তর দেশনা দিয়েছেন। এ জন্য তিনি জাতি ধর্মনির্বিশেষে সকলের কাছে পরম পূজনীয় ব্যক্তি হিসেবে পরিগণিত হয়েছেন। পূজ্য বনভন্তে ধর্মদেশনায় ধর্মের নামে ভ্রান্তনীতিসমূহ, সমাজের নানা কুসংস্কার, সর্বোপরি অবিদ্যা, অন্ধবিশ্বাস ইত্যাদির উপর বিশেষভাবে আলোকপাত করতেন। তিনি ধর্মের ভুল রীতিনীতি পরিবর্তন করে সদ্ধর্মের প্রচারে অনন্য অবদান রেখে গেছেন।

       বৌদ্ধ ইতিহাসে বিশাখা তাঁর চীবর দানের জন্য বিশেষভাবে স্মরণীয় হয়ে আছেন। শ্রদ্ধেয় বনভন্তে ১৯৭৩ সনে লংগদু তিনটিলা বনবিহারে অবস্থানকালে বুদ্ধ আমলে বিশাখাকর্তৃক আয়োজিত কঠিন চীবরদান অনুসরণে চব্বিশ ঘন্টার মধ্যে সুতা কেটে, রং করে, কাপড় বুনে, সেলাই করে চীবর প্রস্তুত করে কঠিন চীবরদান অনুষ্ঠান প্রথম সম্পাদন করে সারাদেশে বৌদ্ধ সমাজে ্এক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। তখন থেকে প্রতিবছর ‘মহান কঠিন চীবরদান’ অনুষ্ঠান বিশাখা কর্তৃক প্রবর্তিত পদ্ধতি-অনুসারে অদ্যাবধি সম্পাদিত হয়ে আসছে।

        পূজনীয় বনভন্তে বুদ্ধের নির্দেশিত পথগুলো সঠিকভাবে অনুসরণের জন্য সর্বদা অধিকতর গুরুত্ব দিতেন। তিনি তাঁর শিষ্যদের সঠিক ভিক্ষুবিনয় পালনে উৎসাহিত করতেন। তাই তাঁর শিষ্যরা অনেকেই ধুতাঙ্গশীল পালন করে থাকেন। শ্রদ্ধেয় বনভন্তের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে অনেক মুক্তিপিয়াসী, আত্মত্যাগী, সংসারবিরাগী ধর্মপ্রাণ ব্যক্তি তাঁর কাছে দীক্ষা নিয়ে শিষ্যত্ব বরণ করেছেন। বর্তমানে তাঁর শিষ্যদের প্রতিষ্ঠিত পার্বত্য এলাকায় প্রচুর শাখা বনবিহার, ভাবনা কুটির প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এইসব ভাবনা কুটিরে শিষ্যদের পরিচালনায় দায়ক-দায়িকাগণ নিয়মিত ভাবনা করে থাকেন।

          মানব জীবন এক দুঃসহ বিয়োগ-কাতরতা ও দুঃখানুভূতির মর্মদাহে প্রতিনিয়তই প্রজ্জ্বলিত। দুঃখের এ সর্বগ্রাসী প্রভাব থেকে পরিত্রাণের জন্য সমাধি বা ভাবনা একান্ত অপরিহার্য। দেহ ও মনের সংযমে একাগ্র সাধনায় ধ্যান বা ভাবনা। ধ্যান সকল মননশীলতার নেতৃত্ব দেয়, মনে চঞ্চলতাহীন ও পরিপূর্ণ প্রশান্তি এনে দেয়। এটি দুঃখমুক্তির অন্যতম উপায়, যা পূজ্য বনভন্তের কণ্ঠে বারংবার উচ্চারিত হতো।

          ভিক্ষু-শ্রামণদের পি-চারণ বুদ্ধধর্মের অন্যতম মৌলিক শিক্ষানীতি। বিশ শতকের মাঝামাঝি নাগাদ এ নীতি প্রচলন ছিল। সে সময়ে বিহারে অবস্থানরত ভিক্ষু বা শ্রামণ নিকটবর্তী গ্রামে সকাল বেলায় অপ্রত্যাশিতভাবে উপস্থিত হয়ে দিনের আহার সংগ্রহ করতেন। দীর্ঘকাল যাবৎ ভিক্ষুগণ এ নীতি পরিহার করেছিলেন। পূজনীয় বনভন্তের আবির্ভাবে ভিক্ষুদের আবার পি-চারণ শুরু হয়। দায়ক-দায়িকারা অকুণ্ঠ চিত্তে শ্রদ্ধাভরে পি-দান করে থাকেন । অনেক সময় পি-দানের সময় শ্রদ্ধেয় ভিক্ষুদের নিয়ে ধর্মীয় সভা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। বুদ্ধকর্তৃক প্রবর্তিত, প্রচারিত ও নির্দেশিত ধর্মের কা-ারী বৌদ্ধসমাজের কুলরবি মহান আর্যপুরুষ সর্বজনপূজ্য সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তে গত বছর ৩০ জানুয়ারি ঢাকা স্কয়ার হাসপাতালে পরিনির্বাপিত হন। তিনি বৌদ্ধ সমাজকে যেভাবে ধর্মীয়সুধা ও তথাগত বুদ্ধের অমিয় বাণী বিতরণ করে গেছেন তা একমাত্র মহান পুরুষের পক্ষেই সম্ভব। বিশেষ করে এ দেশে বৌদ্ধ সভ্যতা যখন কালের করাল-গ্রাসে নিমজ্জিত তা থেকে মুক্তিলাভের প্রজ্ঞার আলো জ্বালিয়ে দিয়ে গেছেন। এই কল্যাণমিত্র ক্ষণজন্মা মহানপুরুষ মানবকল্যাণে শীল পরিস্ফুটনে ও প্রজ্ঞার আলো বিতরণে যে-অবদান রেখে গেছেন, তা জাতি-ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সকলের শুভ ও মঙ্গল হোক—এই প্রার্থনা রইল। 

সহায়ক গ্রন্থ :
১। Heinz Bechert, Contemporary Buddhism in Bengal and Tripura, 1967
২।G Suniti Bhusan Kanungo, Chakma Resistance to British Domination (1772-1798), 1998.

৩। রাজগুরু (সংকলন) পৃষ্ঠা ১৩, মুকুন্দ চাকমা, ৪ মার্চ ২০০৮

Print Friendly, PDF & Email