log1

আমার অর্হৎ দর্শন বনভন্তে ও এদেশের থেরবাদী বুদ্ধধর্ম

প্রফেসর ড. জিতেন্দ্র লাল বড়ূয়া-

      39১৯৭৪ সালে আমি নোয়াখালি সরকারি কলেজে প্রভাষক হিসেবে কর্মরত এবং মাইজদি শহরের সরকারি কোয়াটারে সপরিবারে অবস্থান করি। সরকারি কোয়াটারগুলোতে বিভিন্ন সরকারি অফিসের কর্মকর্তারা অবস্থান করতেন। পূর্ণেন্দু চাকমা নামক রাঙামাটির এক অধিবাসীও সরকারি কোয়াটারে অবস্থান করতেন। উভয়ে বুদ্ধধর্মীয় লোক হওয়ায় আমাদের মধ্যে পারিবারিক সম্বন্ধ স্থাপিত হয়। একদিন কথা প্রসঙ্গে তিনি আমাকে বললেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে একজন অর্হৎ ভন্তের আবির্ভাব হয়েছে। ওনার মুখ থেকে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত শোনার জন্য আমি আগ্রহ প্রকাশ করি। ধর্মীয় বই-পুস্তক পাঠ করায় অর্হৎ সম্পর্কে আমার কিছুটা ধারণা আছে। প্রবল আগ্রহ থাকলেও আমি জীবনে কখনো কোনো অর্হৎ দেখতে পারব বলে আশা ছিল না। কারণ, বুদ্ধের ধর্মের আয়ুষ্কাল অর্ধেকের বেশি অতিবাহিত হয়েছে। যথাযথভাবে বিনয় ও শীল পালনকারী ধ্যানী ভিক্ষুর বড় অভাব। আমার বিগত তিন পুরুষদের কেউ অর্হৎ দেখেছেন বলে আমি শুনিনি। তাই একজন অর্হৎ দেখার জন্য আমার প্রচ- রকম আগ্রহের সৃষ্টি হয়। পূর্ণেন্দু বাবুর নিকট থেকে অর্হৎ ভন্তে সম্পর্কে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে জানতে চেষ্টা করি। জানতে পারলাম এই অর্হৎ ভন্তে পার্বত্য চট্টগ্রামের ধনপাতা ও দীঘিনালার গভীর জঙ্গলে সুদীর্ঘ বছর ধ্যান করার পর লোকালয়ে এসেছেন। বনে ধ্যান করেছেন বলে লোকজন তাঁকে ‘বনভন্তে’ নামে ডাকেন। দিন দিন বনভন্তেকে দর্শন করার আগ্রহ আমার বাড়তে থাকে। ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসের ১১ তারিখ চট্টগ্রামে আমার দ্বিতীয় কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। এ উপলক্ষে আমি নোয়াখালি থেকে এসে দামপাড়া পুলিশ হাসপাতালে আমার শ্বশুরের বাসায় অবস্থান করছিলাম। কয়েকদিন পর আমার স্ত্রী ও শ্বশুরকে জানিয়ে আমি রাঙামাটির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। গিয়ে ওঠলাম আমার কাকা শ্বশুর কুমার কশ্যপ বাবুর বাসায়। তিনি তখন সেখানে ডিসি কোর্টে পেসকার হিসেবে কর্মরত। ওনাকে বললাম, আমি বনভন্তেকে দর্শন করার জন্য এসেছি। তিনি পরদিন সকালে রিজার্ভ বাজার লঞ্চঘাটে গিয়ে আমাকে লংগদুগামী লঞ্চে তুলে দেন। তখনো পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি বাহিনীর জন্ম হয়নি। তাই পার্বত্য এলাকা মোটামুটি শান্ত। তিনি আমাকে লংগদু তিনটিলা ইউনিয়নের তৎকালীন চেয়ারম্যান অনিল কান্তি চাকমা বরাবর একখানি পত্র দেন এবং সেখানে গিয়ে উঠতে বলেন। সেদিন বেলা দেড়টা কি দুটার দিকে আমি লংগদুর তিনটিলা পৌঁছে সরাসরি অনিল কান্তি চাকমার বাসায় গিয়ে উঠি। কিছুক্ষণ বিশ্রামের পর আমাকে ছড়া থেকে স্নান করে আসতে বলা হয়। স্নানান্তে খাওয়া দাওয়ার পর তারা আমার বিশ্রামের ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু ঘুম বা বিশ্রাম আমার কিছুই হয়নি, কারণ আমি কখন বনভন্তের কাছে যেতে পারব এ চিন্তায় বিভোর ছিলাম।

অবশেষে বিকেল চারটার দিকে আমি বনভন্তের সাথে সাক্ষাৎ করতে গেলাম। তিনটিলায় চারদিকে জলবেষ্টিত গাছ গাছালিতে ভরা ছোট একটি টিলা পাহাড়ের মাটির ঘরটিতে এক বুদ্ধমূর্তি এবং এর সামনে চারদিক খোলা আরেকটি ঘর। টিলা পাহাড়টি অতিক্রম করতে আমার কিছুটা ভীতিজনিত শঙ্কা কাজ করছিল। জীবনে প্রথম একজন অর্হতের সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলাম। কী জানি কী ভুল-ত্রুটি হয় মনে এই ভাবের উদয় হলো। আমার কাছে দানীয় বস্তু ছিল কিছু বিকেল হওয়ায় তা আমি সঙ্গে নিইনি। পাহাড় বেয়ে কাছে যেতে কুঁড়েঘরটিতে একজন শ্রামণকে দেখলাম। ঘরটির সামনের অনতিদূরে একজন বৌদ্ধ ভিক্ষু একজন চাকমা ছেলেকে কী যেন নির্দেশনা দিচ্ছেন। আমি সরাসরি কুঁড়ে ঘরটিতে গিয়ে বুদ্ধকে বন্দনা করে সামনের খোলা ঘরটিতে বিছানো পাটিতে গিয়ে বসলাম। ইতিমধ্যে বাইরের ভন্তেটি আমার সামনে এসে উপস্থিত। আমার বুঝতে কোনো অসুবিধা হয়নি যে ওনিই পূজ্য বনভন্তে। দেখেই বুঝা যায় ওনার তখন যৌবনকাল। আমি ব্যতীত সেখানে অন্য কেউ দর্শনার্থী ছিল না। তখনো বনভন্তের এত ব্যাপক পরিচিতি হয়নি। বনভন্তেকে বন্দনা করে নিজের পরিচয় দিলাম। ওনার সাথে কথা বলার পর আমার সমস্ত শঙ্কা দূর হলো। প্রতিরূপ দেশে যেখানে কোনো ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও বৌদ্ধ ভিক্ষু নেই সেখানে কীভাবে জীবনযাপন করতে হবে, তা ওঁনাকে জিজ্ঞেস করি। আমাকে তিনি পঞ্চশীল পালন করে কীভাবে বৌদ্ধিক জীবনযাপন করতে হবে তা বুঝিয়ে বললেন। পঞ্চশীল পালনের ফলও বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করলেন। ইতিমধ্যে একটি চাকমা পরিবার এসে একটু দূর থেকে বনভন্তেকে বন্দনা জানালে তিনি তাদের মদ্যপান ত্যাগ করে পঞ্চশীল পালন করতে নির্দেশ দেন। সন্ধ্যা হওয়ার একটু আগে আমি বনভন্তের নিকট থেকে পরদিন সকালে আসার অনুমতি নিয়ে বিদায় হই।

পরদিন সকাল আটটায় আমি পুনরায় বনভন্তের কাছে আসি। তখন আমার মনে শঙ্কা-সংশয় কিছুই নেই। পূজ্য বনভন্তে আমার সাথে অত্যন্ত খোলামেলাভাবে আলাপ করলেন। আমার দানীয়বস্তুগুলো নিলেন। ক্যাম্পাসে একটি বিহার নির্মাণ করা হচ্ছে যার চূড়া লঞ্চ থেকে দেখা যাবে; সেটা তিনি আমাকে নিয়ে গিয়ে দেখালেন। আমি সেখানে কিছু অর্থ দান করতে চাইলে তিনি আমাকে তা দান বাক্সে দিতে বললেন। সেদিনও অন্যান্য ধর্মীয় আলোচনার পর পূজ্য বনভন্তের নিকট থেকে আমি বিদায় নিলাম। এরপর ১৯৭৬ সালে বনভন্তে লংগদু তিনটিলা থেকে রাঙামাটি রাজবন বিহারে চলে আসেন। সেখানে আসার পর ওঁনার ব্যাপক পরিচিতি ঘটে এবং ভক্ত উপাসক-উপাসিকার সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। আমি সরকারি চাকরি উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় বদলি হতে থাকি। ১৯৯৮ সালে যখন সরকারিভাবে মায়ানমার সফরের সুযোগ হয় তখন বনভন্তের প্রথম দেশনা সংকলক প্রয়াত ডা. অরবিন্দ বড়–য়াকে দলে পাই। ইতিমধ্যে বনভন্তের কাছে আসার কারণে ওঁনার সাথে আমার পরিচয় হয়েছিল। রাত্রি বেলা প্রায় দিন আমি ডা. বড়–য়ার নিকট থেকে বনভন্তের গল্প শুনতাম। বাইরের জেলা থেকে যখন চট্টগ্রামে আসতাম তখনই সময় সুযোগ পেলে বনভন্তের কাছে ছুটে আসতাম শ্রদ্ধার টানে। কিন্তু লংগদু তিনটিলায় বনভন্তেকে যেভাবে একান্ত আপনভাবে পেয়েছিলাম, সেভাবে আর পাওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, ইতিমধ্যে বনভন্তের শিষ্য, ভক্ত উপাসক-উপাসিকা ও অনুরাগীর সংখ্যা অনেক অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন ওঁনার কাছে যাওয়াই অনেক কঠিন ব্যাপার। অনেকদিন থেকে আমার আত্মীয়-স্বজনেরাও বনভন্তের কাছে যেতে শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে আমার শ্যালিকা ডা. পারমিতা বড়–য়া অন্যতম। ওর গলায় যখন টিউমার হয় তখন সে বনভন্তের কাছে গিয়ে এর প্রতিকার প্রার্থনা করে। বনভন্তে তাকে মুখে মুখে বলতে বলেন, আমি মরব, আমি মরব। এ কথার মর্ম বুঝতে না পেরে সে ঢাকার বাসায় ফিরে মন খারাপ করে। পূজ্য বনভন্তে তাকে যে মরণানুস্মৃতি ভাবনা করার কথা বলেছেন তা সে বুঝতে পারেনি। বুঝিয়ে বলার পর সে আশ্বস্ত হয়। এরপর থেকে বনভন্তে অনেক দেশনায় ডা. পারমিতার কথা বলতেন। পারমিতা সুযোগ পেলেই বনভন্তের কাছে ছুটে আসত। এভাবে প্রথম থেকে আমরা পারিবারিকভাবে পূজ্য বনভন্তের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত ছিলাম।

অষ্টাদশ-ঊনবিংশ শতকে চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বৌদ্ধরা প্রকৃত বুদ্ধধর্ম ভুলে গিয়ে নানা দেবদেবীর পূজা ও বিভিন্ন কুসংস্কারে নিয়োজিত ছিলেন। বুদ্ধধর্মে মহাযানী তান্ত্রিকতা প্রবেশ করে মূল বুদ্ধধর্ম বিকৃত হয়ে গেল। তখনকার বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বিনয়পিটকের নিয়মকানুন সম্বন্ধে কিছুই জানতেন না। তারা বিশ বছর বয়সের আগে উপসম্পদা গ্রহণ করতেন। তাঁরা রাত্রে ভাত ছাড়া অন্যান্য খাদ্য পানীয় গ্রহণ করতেন। তাঁদের চীবর অর্থাৎ পরিধেয় বস্ত্র বিনয় নিয়মানুসারে তৈরি হতো না। তখন বৌদ্ধ ভিক্ষুরা কোনোরকমে দশশীল মেনে চলতেন। সে যুগে বৌদ্ধ পুরোহিতদের বলা হতো ‘রাউলী’। তাদের কেউ কেউ মহাযানী পুরোহিতদের মতো সংসারধর্ম পালন করতেন। ভিক্ষুত্ব লাভের পর মাত্র সাতদিন তারা দশশীল পালন করতেন। তবে মজার ব্যাপার হলো, গেরুয়া কাপড়টি তাঁরা তাঁদের কাছেই রেখে দিতেন এবং যে-কোনো ধর্মীয় কাজ করার সময় সেই গেরুয়া কাপড় গলায় জড়িয়ে নিতেন। পাহাড়ি ও সমতলী বৌদ্ধরা কতকগুলো দেবদেবীর পূজায় অভ্যস্ত ছিল যেমন কালি, দুর্গা, লক্ষ্মী, শনি, মনসা, ডাকিনী প্রভৃতির পূজা। বিভিন্ন দেবতার পূজায় পশুপক্ষীও বলি দান করা হতো। চাকমারা ‘মা লক্ষèী মা’র পূজা করে শুকর, মোরগ ইত্যাদি বলি দিত এবং পরে সেই প্রসাদী মাংস নিজেরাই খেত। বাঙালি বৌদ্ধ সমাজে মগধেশ্বরী পূজার প্রচলন ছিল। বনভন্তের আবির্ভাবের পূর্বেও পার্বত্য এলাকার বৌদ্ধরা মনে করত বিভিন্ন দেবদেবীর পূজা-অর্চনার মাধ্যমে সুখ-শান্তি অর্জন করা যায়। নিজেকে রক্ষা করার অভিপ্রায়ে মিথ্যাদৃষ্টির আশ্রয় গ্রহণ করে বৃক্ষদেবতার পূজা, গাং পূজা, সিন্নি পূজা, থানমানা পূজা ইত্যাদি চাকমা সমাজে তখনো প্রচলিত ছিল।

বৌদ্ধ সমাজের চরম বোধহীন অবস্থায় আজ থেকে দেড়শ বছর আগে অর্থাৎ ১৮৬৪ খ্রিষ্টাব্দে চাকমা সার্কেলের মহিয়সী কালিন্দী রাণীর পৃষ্ঠপোষকতায় আরকানী বৌদ্ধ ভিক্ষু সারমেধ মহাথেরর নেতৃত্বে এদেশে থেরবাদী সদ্ধর্মের পুনরুত্থান হয়। এরপর থেকে থেরবাদী বৌদ্ধ ভিক্ষু পুর্ণাচার, কৃপাশরণ, প্রজ্ঞালোক, আর্যবংশ, বংশদীপ, জ্ঞানীশ্বর, অভয়তিষ্য মহাথেরসহ আরও অনেক অনেক বৌদ্ধ ভিক্ষুদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে বৌদ্ধ ভিক্ষু ও বৌদ্ধ নরনারীদের মধ্যে থেরবাদী চেতনা ফিরে আসে। মিথ্যাদৃষ্টি ও কুসংস্কার ধীরে ধীরে লোপ পায়। অতঃপর শিক্ষা-দীক্ষায় ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বৌদ্ধরা এগিয়ে যেতে থাকে, কিন্তু ধর্মীয় বিষয়ে তাদের অগ্রগতি তেমন ছিল না।

১৯৭৩ সাল থেকে পূজ্য বনভন্তে পার্বত্য চট্টগ্রামে আবির্ভাব হওয়ার পর থেকে বৌদ্ধদের ধর্মীয় চেতনা আরও লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে থাকে। ১৯৭৬ এ তিনি রাঙামাটি রাজবন বিহারে আগমন করার পর ৮৪ হাজার বাতি দান, সীবলী পূজা, উপগুপ্ত পূজা, ছিমিতং পূজা, আকাশবাতি দান, পূজনীয় ভিক্ষুসংঘের পি-চারণ, সম্মিলিত সংঘদান, অষ্ট পরিষ্কার দান ইত্যাদির প্রচলন করেন। এছাড়া তিনি বিশাখা-প্রবর্তিত নিয়মে একই দিনে সুতা কেটে, কাপড় বানিয়ে সেলাই ও রং করে কঠিন চীবরদান প্রবর্তন করেন। রাজবন বিহারে অভিরাম চলতে থাকে বনভন্তের দেশনা। এখান থেকে শুরু হয় বাংলাদেশের ধর্মবিপ্লব। কালক্রমে এই ধর্মবিপ্লবের ঢেউ টেকনাফ থেকে তেতুলিয়া ছাড়িয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও ছড়িয়ে পড়ে। তিনি প্রতিদিন ভিক্ষু-শ্রামণ, দায়ক-দায়িকা ও উপাসক-উপাসিকাদের ধর্মীয় চেতনায় আলোকিত করার জন্য জ্ঞান, ধর্ম ও অভয়দান করতেন। বুদ্ধের চতুরার্যসত্য ও প্রতীত্যসমুৎপাদ নীতি ব্যাখ্যা করে হাজার হাজার দায়ক-দায়িকাকে প্রতিনিয়ত সদ্ধর্মসুধা বিলি করতেন। বর্তমান বিশ্বে তিনি মানবকল্যাণের এক উজ্জ্বল আলোকবর্তিকা। শুধু বাংলাদেশে নয় সমগ্র বিশ্বের বুদ্ধধর্মের এক অনন্য ধর্মীয় গুরু হিসেবে বনভন্তে সুপরিচিত। এতদঞ্চলের থেরবাদী বুদ্ধধর্মের অন্যতম প্রাণপুরুষ হিসেবে সাধনানন্দ মহাস্থবির বনভন্তে আমাদের অমূল্য সম্পদ ও অতি গৌরবের। 

লেখক : প্রফেসর ড. জিতেন্দ্র লাল বড়ূয়া, অধ্যক্ষ (অব.), নরসিংদী সরকারি কলেজ।

Print Friendly, PDF & Email